স্যন্দন
ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৭ আগস্ট : নষ্ট মিটার পরিবর্তন করে নতুন করে মিটার বসানোর
উদ্যোগ গ্রহণ করলে, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায় করলে এবং সঠিক সময়ে বিদ্যুৎ বিলের রিডিং
করলে অস্বাভাবিকভাবে বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধি করতে হয় না। এই কথা বললেন প্রাক্তন বিদ্যুৎ
মন্ত্রী মানিক দে। আগরতলা শহরের বিক্ষোভ কর্মসূচি সংঘটিত করে এই কথা বলেন তিনি। এদিন
রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও বনমালীপুর বিদ্যুৎ নিগম কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন
করে সিপিআইএম। বিদ্যুৎ মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে স্মার্ট মিটার বাতিলের দাবিতে
এইদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি সংগঠিত করা হয় সিপিআইএম সদর মহকুমা কমিটি। এইদিন সিপিআইএম
কর্মী সমর্থকরা মিছিল করে বনমালীপুর বিদ্যুৎ নিগমের অফিসের সামনে যায়। তারপর সেখানে
তারা বিক্ষোভ সভা করে।
প্রাক্তন বিদ্যুৎ মন্ত্রী আরো বলেন, অসংখ্য প্রতিশ্রুতি
দিয়ে ১২ বছর আগে দেশের ক্ষমতায় এসে অনেক সর্বনাশ করেছে বর্তমান বিজেপি নেতৃত্বাধীন
সরকার। এর মধ্যে বিদ্যুৎ অন্যতম। বিদ্যুৎ হল মানুষের আতাবশ্যকীয় সম্পদ। বিদ্যুৎ না
থাকলে দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং জীবন যাত্রা অচল হয়ে পড়ে। তাই বিদ্যুৎ যারা পরিচালনা
করে তাদের সতর্ক হওয়া এবং গ্রাহকদের প্রতি দায়বদ্ধ হওয়া প্রথম ভূমিকা। যা বিজেপি
সরকারের মধ্যে নেই। এবং এ সরকারের ১০ টাকা বৃদ্ধি করে দুই টাকা কমানো কৌশলগত পদ্ধতি।
বর্তমানে রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিষেবাকে একেবারে তলানিতে নিয়ে দাঁড় করিয়েছে এই সরকার।
বর্তমানে রাজ্যে বিদ্যুৎ ঋণ ১২০০ কোটি টাকা থেকে ১৩০০ কোটি টাকা। তিনি আরো বলেন, বিদ্যুৎ
নিগম ১০০ সরকারি সংস্থা। অথচ এই সরকার দাবি করছে বিদ্যুতের মূল্য নাকি সরকার বাড়ায়
না। এভাবে দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যেতে পারে না বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে সংবাদ
মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অমল চক্রবর্তী জানান ২০১৮ সালের পর রাজ্যের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা
একেবারে ভেঙ্গে পড়েছে। বিদ্যুৎ-এর মাশুল কোন সময় বৃদ্ধি করা হয় কেউই জানে না। বিদ্যুৎ
বিলে নতুন নতুন চার্জ জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। নতুন সংস্করণ স্মার্ট মিটার। জোর পূর্বক মানুষের
বাড়িতে স্মার্ট মিটার লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর এই স্মার্ট মিটারের কারনে ভুতুরে বিল
আসছে। সরকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে বেসরকারি হাতে তুলে দিতে চাইছে। সরকারের এই নিতির কারনে
রাজ্যের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ছে। এদিকে যুবরাজ নগর ব্লক এলাকায় অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ
বিলের বোঝা প্রত্যাহার এবং স্মার্ট মিটার সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম ও আতঙ্ক দূরীকরণ
এবং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেডের
উত্তর ত্রিপুরা জেলা কর্তৃপক্ষের কাছে এক স্মারকলিপি প্রদান করেছে যুবরাজনগর ব্লক কংগ্রেস
কমিটি। ব্লক কংগ্রেস কমিটির সভাপতি শচীন চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রেরিত এই স্মারকলিপিতে
উল্লেখ করা হয় যে, দীর্ঘদিন ধরে যুবরাজনগর ব্লক এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা নিগমের নানা
সিদ্ধান্ত ও নিম্নমানের পরিষেবার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিশেষ করে সাধারণ দিনমজুর,
খেটে-খাওয়া মানুষ, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত
ও কাল্পনিক বিদ্যুৎ বিলের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্মারকলিপিতে
উত্থাপিত প্রধান ৪টি দাবিসমূহ হল, অতিরিক্ত ও আনুমানিক বিল সংশোধন গ্রাহকদের ব্যবহারের
তুলনায় বহুগুণ বেশি টাকার অসংগতিপূর্ণ ও অনুমানিক বিল পাঠানো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
অতীতে পাঠানো অতিরিক্ত বিলের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দ্রুত তা সংশোধন ও প্রত্যাহার করতে
হবে। স্মার্ট মিটার বসানো ও ব্যবহার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি
হয়েছে, তা দূর করতে হবে। মিটার বসানোর ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং গ্রাহকদের
ওপর কোনো অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না ফেলার আহ্বান জানানো হয়। স্মারকলিপি প্রদানের পর যুবরাজনগর
ব্লক কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাধারণ মানুষের জনদুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে বিদ্যুৎ
নিগম কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত এসব যুক্তিসঙ্গত দাবি মেনে নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ না
করে, তবে আগামী দিনে যুবরাজনগর ব্লকের সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে
নামতে বাধ্য হবে কংগ্রেস। অপরদিকে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ মাশুল প্রত্যাহার, স্মার্ট মিটার
বাতিলের দাবিতে পেঁচারথলের শান্তিপুরে জাতীয় সড়ক অবরোধ ও বিদ্যুৎ নিগমে বিক্ষোভ প্রদর্শন
করে এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান