বাড়িরাজ্যআইনশৃঙ্খলাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখালো কাঁঠালতলীর ঘটনা, আইন হাতে তুলে নিল জনগণ

আইনশৃঙ্খলাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখালো কাঁঠালতলীর ঘটনা, আইন হাতে তুলে নিল জনগণ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৩ জুন : মঙ্গলবার খাকি উদ্দি গায়ে নিয়ে এক বীভৎস দৃশ্য দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল পশ্চিম জেলা পুলিশ প্রশাসন। জেলা পুলিশ সুপার নমিত পাঠক, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার ধ্রুব নাথ, আমতলী থানার ওসি পরিতোষ দাস থেকে শুরু করে সমস্ত আধিকারিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু অনভিজ্ঞতা যে রাষ্ট্রপতি কালার্স প্রাপ্ত পুলিশকে কতটা ঘিরে ধরেছে সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে পুলিশ আধিকারিকরা। উল্লেখ্য, কাঁঠালতলী এলাকায় সোমবার রাতে সমীর দাস খুন কাণ্ডের ঘটনার উত্তেজনা যতদূর গড়ার তত দূর পর্যন্তই গড়িয়েছে। অভিযুক্তদের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে উত্তেজনা।

সকাল থেকেই পরিস্থিতি ছিল থমথমে। অভিযুক্ত স্বপন সূত্রধর এবং মিঠুন সূত্রধরের খুঁজেছিল পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে উত্তেজিত এলাকাবাসী। কিন্তু কয়েক ঘন্টার মধ্যেই পুলিশের সফলতা মিলে এদিন। ইন্দ্রনগর এলাকা থেকে দুজনকে আটক করে এনসিসি থানার পুলিশ এবং অভয়নগর ফাঁড়ির পুলিশ। কিন্তু উত্তেজিত এলাকাবাসী সকাল থেকেই ২ অভিযুক্তের বাড়ি ঘরে হামলা শুরু করে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে অভিযুক্তদের বাড়িঘর ভাঙচুর চালায়। পুলিশ আধিকারিকরা কয়েক শতাধিক টিএসআর এবং সিআরপিএফ নিয়ে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেনি বলা চলে। পুলিশকে দর্শক করে বাড়িঘর ভাঙচুর চলে দিনভর।

যদিও দুপুরবেলা পুলিশ স্বপন সূত্রধর এবং মিঠুন সূত্রধরের পরিবারকে বাড়ি থেকে বের করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। যদিও অগ্রিম বিষয়টি আঁচ করতে পেরে অভিযুক্তদের স্ত্রী এবং তাদের সন্তানদের ঘিরে ফেলে এলাকাবাসী। দুই অভিযুক্তের নিষ্পাপ শিশু পর্যন্ত আতঙ্কে থরথর করে কাঁপছিল। ঢিল, লাঠির আঘাত সবকিছু পিঠে নিয়ে ঘর ছেড়ে বের হয়ে আসেন দুই অভিযুক্তের পরিবারে লোকজন। জনরোষে আতঙ্কিত পরিবার পুলিশের নিরাপত্তায় ঘটনাস্থল থেকে বেঁচে আসে। বিকালের নাগাদ সমীর দাসের মৃতদেহ এলাকায় পৌঁছাতেই পরিস্থিতি আরো কয়েকগুণ উত্তপ্ত হয়ে উঠে। পর্যাপ্ত পুলিশ, টি এস আর এবং সিআরপিএফ জওয়ান থাকার পরেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বারবারই ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে প্রবেশ করে আগুন লাগিয়ে দেয় ঘরের মধ্যে। পুলিশ প্রশাসনের সামনেই পুড়ল ঘরবাড়ি সবকিছু। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে মনে হয়েছিল যেন আইন এবার সাধারণ মানুষের হাতে! পুলিশ প্রশাসন থাকার পরেও কারোর কোনো ভূমিকা নেই। সব শেষে মৃতদেহ শেষকৃত্য সম্পূর্ণ করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ মাইক নিয়ে সকলকে বাড়িতে প্রবেশ করার জন্য রোডমার্চ করে শান্তির বার্তা দেন। দিনভর এক অস্থির পরিস্থিতি সাক্ষী হল আমতলী থানাধীন কাঠালতলী এলাকা। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি, আবার কেউ সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে। কিন্তু পুলিশের সামনে যেভাবে এদিন আইন হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে সেটা সাধারণ মানুষের কাছে অনেকটাই আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এলাকায় একঝাঁক নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন থাকলেও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য