স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৫ জুন : ধান, আম, মশলা-সহ একাধিক কৃষিপণ্যের উৎপাদনে ভারত আজ বিশ্বের শীর্ষস্থান অধিকার করেছে। একই সঙ্গে কৃষকদের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন ত্রিপুরার কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতন লাল নাথ।
আজ আগরতলার ডুকলি কৃষি মহকুমার অন্তর্গত আরালিয়ায় আয়োজিত ‘খেত বাঁচাও অভিযান’ এবং ন্যাচারাল ফার্মিং বিষয়ক এক কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। উল্লেখ্য, গত ১ জুন শুরু হওয়া ‘খেত বাঁচাও অভিযান’ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে।মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টানা ১২ বছর দেশের নেতৃত্ব দিয়ে এক নতুন নজির স্থাপন করেছেন। তাঁর সরকারের মূলমন্ত্র ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা প্রয়াস’। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারত বিশ্বের এক নম্বর শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
তিনি আরও বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী দায়িত্ব গ্রহণের আগে ভারতের অর্থনীতি বিশ্বের একাদশ স্থানে ছিল। বর্তমানে তা চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। এক সময় ভারতকে আমেরিকা থেকে চাল ও গম আমদানি করতে হতো, অথচ আজ ভারত ধান উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে।কৃষি মন্ত্রী বলেন দুধ, মশলা, এলাচ, লঙ্কা, হলুদ, আম, আদা, মিলেট, তুলাসহ বহু কৃষিপণ্যের উৎপাদনেও ভারত প্রথম স্থানে রয়েছে।
তাঁর মতে, কৃষি খাতে সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগ ও প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।কৃষকদের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন কৃষকরাই দেশের খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। তাঁদের কঠোর পরিশ্রমেই দেশ আজ কৃষিক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে চলেছে। স্বামী বিবেকানন্দের আত্মনির্ভরতার আদর্শের কথাও তিনি স্মরণ করেন।
ত্রিপুরার আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী জানান, রাজ্যের মাথাপিছু আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার আগে মাথাপিছু আয় ছিল প্রায় ১.৪০ লক্ষ টাকা। গত সাত বছরে তা বেড়ে ১.৯২ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এটি ৩.৯২ লক্ষ টাকা এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ১৯.৮৫ লক্ষ টাকায় উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও জানান, রাজ্যের প্রতিটি পরিবারে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে সুযোগ প্রদানের নীতিতেই সরকার অটল রয়েছে।
কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে ত্রিপুরার পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করে রতন লাল নাথ বলেন বামফ্রন্ট সরকারের সময় রাজ্যে পেঁয়াজ, তৈল কিংবা আমের চাষ তেমনভাবে হতো না। বর্তমানে এসব ফসলের চাষ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র মানিকা দাস দত্ত, সমাজকর্মী সম্পা দাস এবং কৃষি দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিকরা।

