স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১২ জুন: শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের মহিলা কর্মী মৃত্যুকান্ডের ঘটনায় নতুন করে আরো রহস্য উঁকি দিচ্ছে। শুক্রবার সকালে কাঁঠালতলী এলাকায় মনীষার মৃতদেহ পৌছায়। কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবারের লোকজন। শোকস্তব্ধ এলাকাবাসী জমায়েত হয় মনীষার বাড়িতে। মনীষার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আঙ্গুল তুলেন কলেজ কর্তৃপক্ষের দিকে। সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরার সামনে উঠে আসছে একাধিক নাম। নতুন করে যে নামটি উঠে এসেছে সেটা হল রাধিকা রায় আধিকারি। তিনি কে বা তার কি পরিচয় সেটা জানেন না মনীষা দাসের মা। শুক্রবার দুপুরে বাড়িতে মনিষার নিথর দেহ পৌঁছাতেই সংবাদ মাধ্যমের সামনে এই রহস্যের তদন্ত করতে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন তিনি।
তিনি বলেন মনীষা গত কিছুদিন ধরে কলেজ কর্তৃপক্ষের কারণে মানসিকভাবে চাপে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলে শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ থেকে চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। চাকরিতে রিজাইন দিয়ে বাড়িতে চলে আসে। সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যেই হঠাৎ কলেজ কর্তৃপক্ষ কাজের হিসেব দেওয়ার জন্য তাকে ডেকে নিয়ে যায়। গত সোমবার কলেজে যাওয়ার পর তিনদিন ধরে মনীষাকে বাড়িতে ফিরতে দেয়নি। বুধবার রাতের বেলা বাড়ির লোকজনদের খবর দেয় মনীষার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। তারপর শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের সুমন আচার্যী নামে এক যুবক সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন “রাধিকা রায় আধিকারি আপনি এখন কোথায়।” তখন বুঝা যায় এই ঘটনার সঙ্গে রাধিকা রায় আধিকারি যুক্ত রয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন মনীষার মা। তিনি বলেন আর্থিক সহযোগিতা চান না তিনি। মেয়ের মৃত্যুর ঘটনার বিচার চান তিনি। এদিকে বুধবার ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আমতলী থানার পুলিশ বুধবার রাতেই ধলাই জেলার কচুছড়ার প্রসেনজিৎ সরকার নামে যুবককে সংশ্লিষ্ট কলেজ চত্বর থেকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে কিছু অসংলগ্নতা উঠে আসে। বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আমতলী থানার মামলা নম্বর ৫১/২০২৬ ধারা ১০৮/৩১৮(৪)৩৫১/৩(৫) বি.এন.এস। অভিযুক্ত যুবককে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে তুলে পুলিশ। অপরদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী জানান, শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজের ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। নতুন মেডিক্যাল কলেজ। সেই মেডিক্যাল কলেজে কি ভাবে একজন যুবতীর মৃত্যু হল। সরকার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু প্রথমে পুলিশের তদন্ত হওয়ার কথা। একজন যুবতীর মৃত্যু হল, অথচ সেই ভাবে তদন্ত না করে বৃহস্পতিবারই বলে দেওয়া হল এইটা আত্মহত্যার ঘটনা। ঐ যুবতীকে আত্মহত্যার জন্য প্ররোচনা দেওয়া হয়েছিল। এক জনকে পুলিশ আটক করেছে।
এই ধরনের একটা ঘটনা ঘটনার পর পুলিশ ও সরকারের পক্ষ থেকে যেমনটা সিরিয়াস থাকার কথা ছিল তেমনটা নেই। এইটা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেসন হওয়া উচিত ছিল। শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজের আধিকারিকদের তদন্তের আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন। এদিকে শুক্রবার সি আই টি ইউ-র পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করেন নারী নেত্রী পাঞ্চালি ভট্টাচার্যী। তিনি দাবি করেন এ ধরনের ঘটনা রাজ্যে প্রথম কোন মেডিকেল কলেজে সংগঠিত হয়েছে। এই ঘটনার জন্য তারা মাঠে নামবে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করবেন বলে জানান।

