স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৫ জুন : কমলপুরের মায়াছড়ি খেলার মাঠ সংলগ্ন এলাকায় এক বিধবা মহিলার বাড়িতে পরপর দুই দিন অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দুষ্কৃতীদের অগ্নিসংযোগে বাড়ির সমস্ত আসবাবপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। জানা গেছে, মায়াছড়ি এলাকার বাসিন্দা মল্লিকা গোপ গত ৩০ মে দেওঘরে যান। তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতীরা বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রথম দফায় গত সোমবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
বহু মূল্যবান জিনিসপত্র আগুনে নষ্ট হয়ে যায়। তবে ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার আবারও নতুন করে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে স্থানীয় এবং বহিরাগত কিছু দুষ্কৃতী পুনরায় মল্লিকা গোপের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফলে প্রথম অগ্নিকাণ্ডের পর যা কিছু অবশিষ্ট ছিল, তাও সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। বর্তমানে বাড়িটি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মল্লিকা গোপের স্বামী দীর্ঘদিন আগে মারা গেছেন। পরিবারের একমাত্র মেয়ে বিবাহিত। ফলে বাড়িতে তিনি একাই থাকেন। এর মধ্যে এই ধরনের ঘটনা ঘটায় এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বহু সম্পত্তি ক্ষতি হয়েছে। ঘরের আসবাবপত্র, পোশাক-পরিচ্ছদ, গৃহস্থালির সামগ্রী সহ বহু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঘটনার পর সোমবারই কমলপুর পুলিশ স্টেশনে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসীরা। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং কী কারণে পরপর দুই দিন একই বাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে পরপর দুই দিনের এই অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মায়াছড়ি এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামবাসীদের একাংশের বক্তব্য, আজ একটি বাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে, কাল অন্য কারও বাড়িতেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে। প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে রাতে এলাকায় নিরাপদে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়বে।
স্থানীয়দের দাবি, দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি এলাকায় রাতের নিরাপত্তা জোরদার করারও দাবি উঠেছে। কমলপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চালানো হচ্ছে। দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পরপর দুই দফা অগ্নিসংযোগের এই ঘটনায় গোটা মায়াছড়ি এলাকায় এখন আতঙ্ক বাড়ছে।

