স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৪ মে : গত ৪ মে ধর্মনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর ধর্মনগরের ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা ধর্মনগর আসনের যুব মোর্চার মন্ডল সভাপতি রাহুল কিশোর রায়ের মৃতদেহ উদ্ধার হয় নিজ বাড়ির বাথরুম থেকে। এই চাঞ্চল্যকর মৃত্যুকান্ড নিয়ে ধর্মনগর থানার পুলিশ গত ১৯ দিন ধরে চেষ্টার পর সাতজন অভিযুক্তের মধ্যে একজনকে জলে তুলতে সক্ষম হয়। এই মামলার অভিযুক্ত কঙ্কন চৌধুরীকে জালে তুলতে সক্ষম হয়েছে। রাহুল কিশোর রায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে গোটা ধর্মনগর জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। এই ঘটনার পরে রাহুল কিশোর রায়ের সহধর্মিনী অনন্যা ভট্টাচার্য ধর্মনগর থানার একটি মামলা করেন।
আর সেই মামলার নম্বর DMN P.S কেস নং – 27/26 · Dt – 5.5.26 U/S – 329(4)/117(2)/351(3)/108/3(5) of BNS 23। মামলা মোতাবিক পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বে সহকারে তদন্ত করছে। অবশেষে গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত কঙ্কন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে। ধৃত কঙ্কন চৌধুরীকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে এই আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে আর কোনো প্ররোচনা বা ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃতকে অতিদ্রুত আদালতে পেশ করা হবে। ধর্মনগর থানার ওসি মিনা দেববর্মা জানান অভিযুক্ত ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিল। শনিবার এবং রবিবার দুদিন চার বাড়িতে অভিযান চালায় ধর্মনগর থানার পুলিশ। তারপর রবিবার সকালে তাকে ভৈরব সরণি নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আরো জানিয়েছেন মোট সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। পুলিশ বাকি ছয় জনকে জালে তোলার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করছে। উল্লেখ্য, এলাকার জনপ্রতিনিধির সহধর্মিনী খাস লোক কঙ্কন।
দীর্ঘদিন ধরে ধর্মনগরে ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে সে এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা। গত কয়েকদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাহুলের মা। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অবশেষে অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে জালে তুলতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। কিন্তু বাকিরা রাজ্যে রয়েছে কিনা সেটাই বড় প্রশ্ন? গত কয়েক মাসে একাধিক দুর্নীতি, অস্ত্র পাচারের মূল অভিযুক্তদের অন্য রাজ্য থেকে গ্রেফতার করে ত্রিপুরায় এনেছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ এবং ত্রিপুরা পুলিশ। কিন্তু কাউন্সিলর মৃত্যু কাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়ায় এত ঢিলেমি কেন সেটা কেউ বুঝে উঠতে পারছে না। অনেকের মতে পুলিশ অদৃশ্য কোনো কারণে তদন্ত প্রক্রিয়াকে বেশিদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে না বলে মনে করছে ধর্মনগর বাসী।

