বাড়িরাজ্যখবর প্রকাশের পর উদ্ধার রাস্তার পাশে থাকা শিশু, শিশু হোমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা...

খবর প্রকাশের পর উদ্ধার রাস্তার পাশে থাকা শিশু, শিশু হোমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান প্রশাসনিক আধিকারিক

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৩ মে : রাজ্যে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠেছে শিশু হোম। অথচ প্রশাসনিক ত্রুটি এবং পরিচালনাগত চরম অভাব এই শিশু হোমগুলির মধ্যে চলছে। সম্প্রতি কাকড়াবনের একটি শিশুর হোম থেকে তিনজন শিশু কন্যা রাতের বেলা পালিয়ে পরেরদিন বিশ্রামগঞ্জ এসে পড়ে। অবশেষে সাধারন মানুষের সচেতনতায় তিন শিশু উদ্ধার হয়েছে। এর রেশ কাটতে না কাটতে এবার আরো একটি চরম উদাসীনতা

এবং গাফিলতির চিত্র ধরা পরল সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরায় এক শিশু হোমের। শুক্রবার সন্ধ্যায় স্যন্দন টিভিতে খবর প্রকাশিত হয়েছিল মলয়নগর বাইপাস সংলগ্ন নেপালি পাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে একটি শিশু গত ১০ দিন ধরে বসে আছে। শিশুটির কোন পরিচয় জানতে পারছে না এলাকাবাসী। শিশুটি কোন কিছু খায় না এবং সে কথাও বলতে পারে না। পুলিশ, দমকল কর্মী থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কর্মীদের খবর দেওয়া হলে কেউই শিশুটিকে উদ্ধার করতে চায়নি। সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরায় শিশুটির পরিবারের কাছে আবেদন করেছিল এলাকাবাসী।

 এই খবরটি সংবাদ মাধ্যমে পরিবেশন হওয়ার পর ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার পশ্চিম ত্রিপুরার নজরে আসে। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার সোমনাথ গন চৌধুরী ঘটনাস্থলে যান। শিশুটিকে সনাক্ত করে খবর দেয় যে হোম থেকে শিশুটি পালিয়ে এসেছিল সেই হোমে, অর্থাৎ ভুবনবন স্থিত অন্বেষা ওপেন সেন্টারে। সঙ্গে সঙ্গে সেই হোম থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার অফিসারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছেন, শিশুটিকে গত পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে সিধাই থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ তুলে দেয় তাদের হাতে। শিশুটি গত কয়েক মাস ধরেই অন্বেষা ওপেন সেন্টারে ছিল। এর মধ্যেই গত ৫-৬ দিন আগে সে পালিয়ে আসে। বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পর পুলিশ ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড প্রটেকশনের সহযোগিতা চায়। তিনি আরো জানিয়েছেন শিশুটি মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে কথা বলতে পারে না। তার চিকিৎসার জন্য বন্দোবস্ত করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হল কিভাবে শিশুটি হোম থেকে পালিয়ে আসলো?

 অন্বেষা ওপেন সেন্টার হোমের মধ্যে যদি সঠিকভাবে নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকত তাহলে শিশুটির পালিয়ে আসতে পারতো না। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরো জানিয়েছেন অন্বেষা ওপেন সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই অন্বেষা ওপেন সেন্টারের ইনচার্জ হলেন সুজিত ঘোষ এবং দায়িত্বে রয়েছেন জয়ন্তী দেব ও প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী। এই সেন্টার থেকে আগেও শিশু পালিয়ে আসার ঘটনা সামনে এসেছিল বলে সূত্রে খবর। এখন দেখার বিষয় অন্বেষা ওপেন সেন্টারে বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয় ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড প্রটেকশন অফিসার। কারণ রাজ্যের শিশু হোমগুলি থেকে শিশু পালানোর ঘটনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। উপযুক্ত পদক্ষেপ না নেওয়ায় হোমগুলির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের মধ্যে চরম উদাসীনতা কাজ করছে। অঘটন ঘটলে এর দায়ভার কে নেবে সেটাই এখন বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য