স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৭ মে : শিশুদের বিনোদনের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যায়ে নির্মিত শিশু উদ্যান যত্ন এবং সংস্কারের অভাবে অন্তর্জলী যাত্রার পথে। অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা শিশু উদ্যান বর্তমানে সমাজদ্রোহীদের আখড়ায় পরিনত হয়েছে। সম্ভবত ২০০৫-২০০৬ সালে ঋষ্যমুখ ব্লকের উত্তর সাড়াসীমা পঞ্চায়েতের বিবেকানন্দ কলোনীতে শিশুদের বিনোদনের জন্য ভগৎসিং শিশু উদ্যান তৈরি করা হয়েছিল।
শিশু উদ্যানের প্রবেশদ্বারে শহীদ ভগৎ সিংয়ের মর্মর মূর্তি, শিশুদের মনোরঞ্জনের জন্য ডাইনোসর, কুমির, কচ্ছপ সহ নানা নানা প্রজাতির প্রানী স্টেচো, শিশুদের খেলার সামগ্রী, বিশ্রামের জন্য হাওয়া ঘর, নানা ফুলের গাছ রোপন করা হয়েছিল। সোন্দর্য বর্ধনে ঝাউগাছ, পাম ওয়েলের গাছ দিয়ে ঘেরাও করে, বাগানে জল দেওয়ার জন্য একটা ছোট পুকুর ও করা হয়েছিল। এক সময় ছোট শিশুরা তাদের মা, বাবা, অভিভাবকদের নিয়ে বিকেলে শিশু উদ্যানে গিয়ে বিনোদন করত।
সময়ের সাথে সাথে অযত্নে অবহেলায় সেই সুন্দর শিশু উদ্যান সংস্কারের অভাবে নোংরা আবর্জনায় ভরে উঠেছে। পুকুরের পাড় ভেঙ্গে পড়েছে। জল শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। ঘন জঙ্গলে শিশু উদ্যান ঢেকে গেছে। শিশু উদ্যানের ভিতরে গিয়ে দেখা গেছে চারিদিকে খালি মদের বোতল ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় পড়ে আছে। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানা গেছে, এক সময় এই ভগৎসিং শিশু উদ্যানে বিকেল গড়াতেই প্রচুর লোক আসতো তাদের ছোট ছেলে মেয়েদের নিয়ে। ছোট ছোট শিশুরা মনের আনন্দে এদিক ওদিক ছুটাছুটি করতো।
দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই শিশু উদ্যানের সংস্কার নেই। এখন সন্ধ্যার পর সমাজদ্রোহীরা এখানে বসে মদের পেয়ালায় মুখ ডুবিয়ে সমাজবিরোধী কাজের পরিকল্পনা করছে। শিশু উদ্যান সংস্কার করার সরকারের তেমন উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। শিশু উদ্যানের ঠিক উল্টো দিকে জেলা পঞ্চায়েত রাজ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। সম্প্রতি একি ছাদের তলায় জেলা পরিষদের কার্যালয় স্থানান্তর করে নিয়ে আসা হয়েছে। এখন দেখার জেলা পরিষদের এই সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকা শিশু উদ্যান নজরে এনে কি ভূমিকা গ্রহন করেন।

