বাড়িরাজ্যত্রিপুরার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখন থেকে ১০ থেকে ১১ শতাংশের কাছাকাছি: মুখ্যমন্ত্রী

ত্রিপুরার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখন থেকে ১০ থেকে ১১ শতাংশের কাছাকাছি: মুখ্যমন্ত্রী

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৮ মার্চ :   সুশাসন, উন্নয়ন এবং মানুষের কল্যাণমূলক কাজগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে রাজ্যের বর্তমান সরকার। সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের দিশায় এগিয়ে চলছে ত্রিপুরা রাজ্য। ত্রিপুরার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখন থেকে ১০ থেকে ১১ শতাংশের কাছাকাছি। যেখানে জাতীয় গড় ৭.৪। রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে রাজ্যপালের ভাষণে।

                                 বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে আজ ত্রিপুরা বিধানসভায় রাজ্যপালের বক্তব্যের উপর আলোচনা করতে গিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। উল্লেখ্য, গত ১৩ মার্চ বাজেট অধিবেশনের শুরুতে দীর্ঘ সময় রাজ্যের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু।

                                   বিধানসভায় এই বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, রাজ্যপালের ভাষণের উপর ধন্যবাদ জানাতে পেরে আমি নিজেকে আনন্দিত বোধ করছি। এর পাশাপাশি আমি মাননীয় রাজ্যপালকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। উনার ভাষণে তিনি যেভাবে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে প্রতিটি বিষয় তুলে ধরেছেন সেটা এরআগে প্রত্যক্ষ হয়নি। তাঁর ভাষণে ত্রিপুরা রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন, সরকারের বিভিন্ন কল্যাণ মূলক উদ্যোগ এবং আমরা আগামী দিনে কি করতে যাচ্ছি সেটা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশিত দিশায় আত্মবিশ্বাসের প্রসঙ্গও ভাষণে উল্লেখ করেছেন রাজ্যপাল। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে ২০৪৭ এ বিকশিত ভারত এর কথা বলছি আমরা। ত্রিপুরা সরকারও বিকশিত ত্রিপুরা ২০৪৭ এর রোডম্যাপ তৈরি করেছে। কারণ প্রতিটি রাজ্য বিকশিত হলেই ভারত একটা উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। রাজ্যপালের ভাষণে সেই বিষয়টি উঠে এসেছে।

                             মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশ যেভাবে অগ্রগতির লক্ষ্যে এগিয়ে চলছে তার সাথে টাল মিলিয়ে ত্রিপুরাও উন্নয়নের দিশায় এগিয়ে চলছে। যেটা উঠে এসেছে রাজ্যপালের সাম্প্রতিক ভাষণে। আমাদের সরকার সুশাসন, উন্নয়ন এবং মানুষের কল্যাণমূলক কাজগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। ২০১৮ সালে আমাদের সরকার আসার পর  উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। আর সেই কাজ শুধু ১২ জন মন্ত্রী কিংবা জনপ্রতিনিধিরা করছেন সেটা নয়, এর কৃতিত্ব সকল অংশের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। বিগত ১৩ মার্চ এই পবিত্র বিধানসভায় রাজ্যপাল ভাষণ রাখেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মোট ১২ জন বিধায়ক ১৪৭টি সংশোধনের জন্য প্রস্তাব করেছেন। আমি এসব দেখে কার্যত অবাক হয়েছি। কেননা সবসময় বিরোধিতা করা যথাযথ নয়। এক্ষেত্রে গঠনমূলক চিন্তাভাবনা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। বিধানসভায় পবিত্রতা বজায় রাখা হলে এর মানও অনেক বাড়বে।

                                  সভায় মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, রাজ্যপাল কি ভাষণ রেখেছেন সেই কপি অনেকেই পড়েন নি। যদি সেই বই পড়তেন তবে এধরণের সংশোধনী আনতেন না তাঁরা। প্রতিটি বিষয় নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে ভাষণ উত্থাপন করেছেন রাজ্যপাল। আমার মনে হয় এসব শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা এবং সংশোধনী – এসব একটা গতানুগতিক ব্যবস্থা। ডাঃ সাহা বলেন, ২০১৮ সালের আগে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যা ছিল, তুলনামূলকভাবে এখন যেভাবে উপরের দিকে যাচ্ছে সেই তুলনায় অনেক কম ছিল। জিএসডিপির বৃদ্ধির হার ৩,২,৪ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ২০১৮ সালের পর থেকে একটা নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। ত্রিপুরার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখন থেকে ১০ থেকে ১১ শতাংশের কাছাকাছি। যেখানে জাতীয় গড় ৭.৪। আমাদের জিএসডিপি আজ প্রায় ১ লক্ষ ৭৯৫ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। আমাদের সরকার আসার পর শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেক উন্নয়ন করেছে। ২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী আমাদের সাক্ষরতার হার ছিল ৮৭.৭৫%। আর আজ সেটা বেড়ে হয়েছে ৯৫.৬%। যে কারণে এখন ত্রিপুরা দেশের তৃতীয় পূর্ণ সাক্ষর রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ইউনিসেফের যাবতীয় নির্দেশিকা মেনেই এই মর্যাদা অর্জন করেছে ত্রিপুরা।

                                 আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের রাজ্যে নতুন কলেজ হচ্ছে। ত্রিপুরার ভবিষ্যতের ভিত্তিতে শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার আমবাসা, কাকড়াবন ও করবুকে তিনটি নতুন সরকারি ডিগ্রি কলেজ গড়ে তুলে শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। সিপাহীজলা জেলার নলছড়ে ছাত্রীদের জন্য একটি কলেজ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগরতলার ওমেন্স কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার জন্য এবার বিল আনা হয়েছে। যা আমাদের জন্য খুবই গর্বের বিষয়। ত্রিপুরা ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজিকে স্টেট টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের গুণগত কোচিং প্রদানের চেষ্টা হচ্ছে। এই লক্ষ্যে আগরতলা, উদয়পুর ও আমবাসায় ত্রিপুরা কম্পিটিটিভ এক্সামিনেশন সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য