স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৬ মার্চ :চৈত্র মাসের প্রথম দিনেই প্রকৃতির রণরূপের সাক্ষী হলো ধর্মনগর মহকুমা। রবিবার গভীর রাতে আচমকা আছড়ে পড়া প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ফুলবাড়ি,পূর্ব ফুলবাড়ি ও চুড়াইবাড়ি এলাকার একাধিক গ্রাম। ঘরবাড়ি, দোকানপাট, গাছপালা থেকে শুরু করে বিদ্যুতের খুঁটি ও তার—সবকিছুই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে পশুপাখিরও মৃত্যুর খবর মিলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত আনুমানিক পৌনে একটা নাগাদ প্রায় ৪০ মিনিট ধরে তাণ্ডব চালায় এই ঘূর্ণিঝড়। এতে ফুলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর ওয়ার্ড, পূর্ব ফুলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১ নম্বর ওয়ার্ড এবং চুড়াইবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের আংশিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এত ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় তারা আগে কখনো দেখেননি। ঝড়ের দাপটে চুড়াইবাড়ি বাজারের অন্তত ১৫ থেকে ২০টি দোকান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
কোনো দোকান ঝড়ে উড়ে গেছে, আবার কোনো দোকানের টিনের ছাউনি উড়ে গিয়ে গাছের ডালে, সুপারি গাছের মাথায় কিংবা বৈদ্যুতিক তারে ঝুলে থাকতে দেখা গেছে। পাশাপাশি একাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে রাস্তায় পড়ে রয়েছে এবং ছিঁড়ে গেছে বিদ্যুতের তার। ঘূর্ণিঝড়ের ধাক্কায় বহু গবাদি পশু আহত ও পাখির মৃত্যু হয়েছে বলেও জানান স্থানীয়রা। চুরাইবাড়ি বাজারের এক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জানান, ঘূর্ণিঝড়ের খবর পেয়ে তিনি বাজারে এসে দেখেন গোটা বাজার কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তার কেবিনের আর কোনো অস্তিত্ব নেই। তিনি প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, তদন্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। এ বিষয়ে ফুলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আব্দুল সালাম জানান, প্রকৃতির এই রুদ্র তাণ্ডবে গোটা এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তীব্রতায় অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি বাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে, আবার অনেক বাড়ির ছাউনি উড়ে গেছে। কোথাও বা বিশাল গাছ উপড়ে পড়ে বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তিনি আরও জানান, এলাকার বহু দরিদ্র পরিবারের একমাত্র সম্বল বহু মূল্যবান আগর গাছ ভেঙে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তার দাবি, এই ধরনের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আগে কখনো দেখেননি এলাকার মানুষ। তাই দ্রুত প্রশাসনিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রবিবার রাত থেকেই বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়ে পড়েছে। তবে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার ও পরিবারগুলোর পাশে জেলা প্রশাসন বা মহকুমা প্রশাসনের কেউ এসে দাঁড়ায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও ত্রান সাহায্যের আশায় প্রহর গুনছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান