স্যন্দন
ডিজিটাল
ডেস্ক,
আগরতলা।
১০ আগস্ট : কীটনাশক খেয়ে তিনটি গরুর মৃত্যু। অভিযোগ, অসহায়
কৃষকের মামলা গ্রহণের অনীহা প্রকাশ করছে কৈলাসহর থানার পুলিশ। জানা যায়, কৈলাসহরের
দেওরাছড়া এডিসি ভিলেজের তিন নং ওয়ার্ডের বাঘাছড়া গ্রামের বাসিন্দা ইননুস আলী পেশায়
একজন কৃষক। ছোট বড় মিলিয়ে তার মোট আটটি গরু রয়েছে। ইননুস আলী প্রতিদিন সকালবেলা নিজের
গরুগুলিকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য পাশ্ববর্তী গ্রামের টিলায় নিয়ে যান। টিলায় গরুদের ছেড়ে
আসার কয়েক ঘন্টা পর গ্রামের এক যুবক ইননুস আলীকে জানায় যে, গরুগুলো কীটনাশক ঔষধ খেয়ে
মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।
এই কথা শোনেই
ইননুস আলী সাথে সাথেই গিয়ে দেখেন তিনটি গরু মৃত অবস্থায় মাটিতে পড়ে রয়েছে এবং বাকী
পাঁচটি গরু মাটিতে পড়ে কাতরাচ্ছে। সাথে সাথেই পাঁচটি গরুকে উদ্ধার করে বাড়িতে এনে লেবুর
জল এবং তেতুলের জল খাইয়ে ঘরোয়া চিকিৎসা করিয়ে পাঁচটি গরুকে বাঁচিয়ে তোলে। মৃত তিনটি
গরুর মৃতদেহের পাশে প্লাস্টিক ব্যাগ ও প্লাস্টিক ব্যাগের ভেতর কীটনাশক ঔষধ পান ইননুস
আলী। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ করে ইননুস আলী জানান যে, সকালবেলা তিনি যখন গরু গুলোকে নিয়ে
টিলা যায়, তখন টিলা জায়গায় গরু গুলোকে ছেড়ে বাড়িতে ফিরে রাস্তায় লালমারি দারলং, সাংগি
দারলং এবং লাল এন কুয়ালা দারলং-কে এক সাথে দেখা হয় এবং তাদের সাথে কথাবার্তাও হয়েছে
বলে জানান। তাদের প্রত্যেকের হাতে প্লাস্টিক ব্যাগ দেখতে পান। এই প্লাস্টিক ব্যাগ গুলো
পরবর্তী সময়ে মৃত গরুর মৃতদেহের পাশ থেকে উদ্ধার করেন। এই ঘটনায় অসহায় ইননুস আলী হতভম্ব
হয়ে পাশ্ববর্তী দারলং গ্রামের চেয়ারম্যানকে সম্পূর্ন ঘটনা জানানোর পর চেয়ারম্যান ইননুস
আলীকে আশ্বস্ত করেন যে, ন্যায্য বিচার করা হবে এবং প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণও দেওয়া হবে।
এই ঘটনার জন্য
পুলিশকে এবং সংবাদ কর্মীদের না জানানোর জন্য ইননুস আলীকে বলেছিলো চেয়ারম্যান। পরবর্তী
সময়ে গ্রামে শালিসি বৈঠক করে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে না পেরে চেয়ারম্যান ইননুস আলীকে
জানিয়ে দেয় যে, তিনি যা পারেন করে নিতে। এই কথা শোনার পর ইননুস আলী কৈলাসহর থানায় তিনজনের
বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করার পরও পুলিশ মামলাটি রেজিষ্ট্রি করেনি এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন
করে নি। মৃত গরু গুলোর ময়না তদন্তের জন্য পুলিশকে বার বার বলার পর পুলিশ জানিয়ে দেয়
যে, পশু হাসপাতালে গিয়ে নিজেরা কথা বলে ময়না তদন্ত করে নিতে। পুলিশের কথা মতো ইননুস
আলী কৈলাসহরের পশু হাসপাতালে গিয়ে পশু চিকিৎসকদের জানানোর পর চিকিৎসকরা জানায় যে, পুলিশ
তাদের না বললে কিংবা পুলিশের লিখিত আদেশ না পেলে ময়নাতদন্ত করতে পারবে না। পশু চিকিৎসকদের
এই কথা শোনার পর ফের কৈলাসহর থানায় গিয়ে জানানোর পর পুলিশ জানায় যে, পশু চিকিৎসকদের
টাকা পয়সা দিলে চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত করে দেবে। এভাবে করে প্রায় এক সপ্তাহ কেটে গেলেও
আজ অব্দি কৈলাসহর থানার পুলিশ ইননুস আলীর মামলাটি রেজিষ্ট্রি করেনি এবং পুলিশ আজ অব্দি
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নি।
মৃত গরু তিনটি
এক সপ্তাহ ধরে একই জায়গায় পড়ে থাকায় এলাকা জুড়ে পচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। পাশ্ববর্তী
গ্রামের সাধারণ মানুষেরা নিজ বাড়িতে বসবাস করতে পারছে না পচা দুর্গন্ধের জন্য। পুলিশের
এই অমানবিক কান্ডে গোটা বাঘাছড়া গ্রামে পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান