স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৬ মার্চ : স্ত্রী কে খুন করে মৃতদেহ নিয়ে রাত কাটালেন খুনি স্বামী। সকালে নাটক করতে গিয়ে ধরা পড়ে অভিযুক্ত স্বামী লক্ষিন্দর মুন্ডা। মৃত গৃহবধুর নাম মনি মুন্ডা। ঘটনা কমলাসাগর হরিশ নগর মুন্ডা পাড়া। অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করেছে বিশালগড় থানা পুলিশ। ঘটনার বিবরণে পার্শ্ববর্তী এক মহিলা জানান, স্বামীর পকেট থেকে টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ তুলে স্ত্রীকে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই মারধোর করছিল। একাধিকবার এলাকাবাসী পাষণ্ড নরপিশাচকে ডাক দেয়। কিন্তু পাষন্ড একবারের জন্য থামেনি।
একটি কাঠের টুকরো দিয়ে বাড়ির উঠোনে কিছুক্ষণ পরপরই স্ত্রীকে মারধর করছিল। শুক্রবার ভোর বেলা পর্যন্ত মারধর করে প্রচন্ড স্বামী। সকাল বেলা যখন কোন সাড়া শব্দ মিল ছিল না তখন এলাকাবাসী এগিয়ে দেখে অভিযুক্ত খুন করেছে তার স্ত্রীকে। সঙ্গে সঙ্গে বিশালগড় মহিলা থানার পুলিশকে খবর দেয় এলাকাবাসী। এদিকে পুলিশ জানায় ঘটনা তদন্ত চলছে। অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো এলাকার সচেতন নাগরিকদের ভূমিকা নিয়ে! বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে পাষণ্ড স্বামী অমানুষের মতো মারধর করছিলেন তখন থেকে দীর্ঘরাত পর্যন্ত একবারের জন্য পুলিশকে খবর দেওয়ার প্রয়োজনটুকু মনে করিনি এলাকাবাসী।
শেষ পর্যন্ত যখন মৃত্যু হয়েছে তখন এলাকাবাসী এগিয়ে এসে কেউ ক্যামেরাবন্দি করেছেন, আবার কেউ কেউ দাবি করছেন বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই মারধর করছে। এটা কেমন সমাজ যে একজন নারী ঘন্টার পর ঘন্টা পাষন্ডের হাতে আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছিল অথচ "আর মেরো না" বলে দায়িত্ব এড়িয়ে গেছেন শিক্ষিত নাগরিক মহল? বৃহস্পতিবার বিকেলেই যদি পাষন্ডকে পুলিশের হাতে তুলে দিত তাহলে বেঁচে যেতেন মনি মুন্ডা। দুই সন্তানের সামনে তার খুন হতো না।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান