বাড়িরাজ্যসার্ভাইক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে ৩ মাসের এইচপিভি টিকাকরণ অভিযান শুরু হয়েছে রাজ্যে

সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে ৩ মাসের এইচপিভি টিকাকরণ অভিযান শুরু হয়েছে রাজ্যে

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৮ ফেব্রুয়ারি :   রাজ্যে কিশোরীদের বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা দেওয়া হবে। দেশে মহিলাদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার বা জরায়ু মুখের ক্যানসারের প্রকোপ। এই মারাত্মক রোগ প্রতিরোধে এবার এগিয়ে এল কেন্দ্রীয় সরকার। রাজস্থানের আজমের শহরে ২৮ ফেব্রুয়ারী  প্রাধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে জাতীয় স্তরে এইচ পিভি টিকাকরণ অভিযানের উদ্বোধন হয়। সেই সঙ্গে ত্রিপুরায় আই জি এম হাসপাতালে রাজ্যভিত্তিক এইচপিভি টিকাকরণ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজ্যভিত্তিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডাঃমানিক সাহা। ক্যাম্পেইনের ৩ মাস পর্যন্ত এই অভিযান চলবে।

এই রোগের প্রধান কারণ হলো হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস সংক্রমণ। এই ক্যান্সার টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর বহু মহিলা নতুন করে সার্ভিক্যাল ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং মৃত্যুও ঘটে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সময়মতো টিকা নিলে ভবিষ্যতে ক্যান্সার সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। যেসব কিশোরী মেয়ে যাঁদের ১৪ বছর বা তার বেশি বয়স কিন্তু ১৫ বছর পূর্ণ হয়নি তাঁরাই একমাত্র এই টিকা নেওয়ার জন্য যোগ্য। এই অভিযানে প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ জন কিশোরীকে টিকা দেওয়া হবে। রাজ্যের সবকটি রুটিন ইমিউনাইজেশন সেশনে আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ এন্ড জি বি হাসপাতাল, আই জি এম হাসপাতাল, টি এম সি, সমস্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মহকুমা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, জেলা হাসপাতালে এই টিকা প্রদান করা হবে। ভারত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের উদ্যোগে চালু হওয়া Universal Immunization WIN হলো একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে দেশের শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি অনলাইনে নথিভুক্ত ও পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই U-WIN পোর্টালে এইচপিভি টিকাকরণ সম্পর্কিত তথ্য নথিভুক্ত করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাকরণের পাশাপাশি নিয়মিত স্ক্রিনিং ও সচেতনতা বৃদ্ধি-এই দুইই সার্ভিক্যাল ক্যানসার প্রতিরোধে সমান গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে দেশে সার্ভিক্যাল ক্যানসারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলেই আশাবাদী চিকিৎসক মহল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্র সরকার স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে চলেছে। এরই অন্যতম উদ্যোগ হল সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার রুখতে টিকার উদ্যোগ। অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে, স্বাস্থ্য অধিকারের অধিকর্তা ডাক্তার দেবশ্রী দেববর্মা পরিবার পরিকল্পনা এবং রোগ প্রতিরোধক অধিকারের অধিকর্তা ডাক্তার অঞ্জন দাস, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন ত্রিপুরার যুগ্ম মিশন অধিকর্তা ডাঃ নূপুর দেববর্মা, রাজ্য স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ সমিতির সদস্য সচিব ডাঃ শৌভিক দেববর্মা, পশ্চিম ত্রিপুরার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ শংকর চক্রবর্তী প্রমুখ।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য