স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২১ ফেব্রুয়ারি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্য সফরের ২৪ ঘন্টা অতিক্রান্ত হয়নি। এর মধ্যেই সরকার প্রধান বিজেপির সঙ্গে শরিকের খন্ড যুদ্ধ। মন্ত্রীর কর্মসূচি বান চাল করে দিল শরিকদল। ঘটনা রামচন্দ্র ঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের বাইজলবাড়ি এলাকায়।স্বশাসিত জেলা পরিষদের নির্বাচনী দামামা বাজতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে খোয়াইয়ের রাজনৈতিক ময়দান। এদিন খোয়াই মহকুমার বাইজালবাড়ি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে জোটসঙ্গী ‘তিপ্রা মথা’-র তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়লেন জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা ও বিজেপি নেতৃত্ব।
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, খোয়াই-আগরতলা জাতীয় সড়ক দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ঘটনার সামাল দিতে মোতায়েন করতে হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিজেপি জনজাতি মোর্চার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার বাইজালবাড়িতে একটি বিশাল বাইক র্যালির আয়োজন করা হয়। এই মিছিলে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার পাশাপাশি জনজাতি মোর্চার রাজ্য নেতৃত্ব প্রসেনজিৎ দেববর্মার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। অভিযোগ, প্রসেনজিৎ দেববর্মার উপস্থিতির খবর জানাজানি হতেই এলাকায় মথা কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। প্রসেনজিৎ দেববর্মার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের একটি ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না। উল্টে তিনি পুলিশের ঘেরাটোপে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিতে মথা কর্মীরা খোয়াই-আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাদের সাফ প্রশ্ন— “ওয়ারেন্ট থাকা সত্ত্বেও।রাস্তা অবরোধের জেরে এলাকায় ব্যাপক যানজট ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান খোয়াই জেলার পুলিশ সুপার রানাদিত্য দাস। এরপর পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। পরবর্তীতে বিশাল পুলিশি পাহাড়ায় বাইজালবাড়ি থেকে পদ্মবিল পর্যন্ত বিজেপির বাইক মিছিলটি সম্পন্ন হয়। মিছিলে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা ও প্রসেনজিৎ দেববর্মা উপস্থিত ছিলেন।উপজাতি এলাকায় নির্বাচনী লড়াইয়ের আগে দুই শিবিরের এই সংঘাত ত্রিপুরার রাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে শাসক জোটের সংহতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে আইনি শৃঙ্খলা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। আজকের এই ঘটনার পর গোটা খোয়াই মহকুমা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

