স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৪ জানুয়ারি : গত বছরের ২৬ জানুয়ারি উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে খুন হয়েছিলেন রাজ্যের ছাত্র এঞ্জেল চাকমা। রাজ্যের গর্বের এই ছাত্রকে মারধর করা হয়েছিল 9 ডিসেম্বর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চিকিৎসার যাবতীয় বাধন ছেড়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে এঞ্জেল ২৬ ডিসেম্বর। বুধবার নন্দননগর এলাকার দেবরাম পাড়া স্থিত প্রয়াত এঞ্জেল চাকমার বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাক্তার মানিক সাহা। সঙ্গে ছিলেন বিজেপির প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা। মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাক্তার মানিক সাহা কথা বলেন প্রয়াত এঞ্জেল চাকমার পরিবারের লোকজনদের সঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রীর সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রয়াত এঞ্জেলের বাবা ও মা।
মুখ্যমন্ত্রী দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তাদের সঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাক্তার মানিক সাহা বলেন এঞ্জেল চাকমার মৃত্যুর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি যোগাযোগ করেছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। ধারাবাহিকভাবে তিনি উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে তদন্তের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত হচ্ছেন। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন অভিযুক্ত হত্যাকারীদের মধ্যে পাঁচজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আর একজনকে এখনো পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাক্তার মানিক সাহা বলেন পুলিশের হাত লম্বা। অভিযুক্ত সেই হত্যাকারী ও শীঘ্রই পুলিশের জালে ধরা পড়বে। ১৮ ডিসেম্বর তিনি দিল্লিতে যাচ্ছেন। ১৯ ডিসেম্বর দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রীদের একটি বৈঠক রয়েছে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাক্তার মানিক সাহা কথা বলবেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে।
এদিকে প্রয়াত এঞ্জেল চাকমার বাবা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর জানিয়েছেন, তিনি বিএসএফে কর্মরত পোস্টিং রয়েছে মনিপুরে। আগরতলার শালবাগান স্থিত সদর কার্যালয়ে তাকে বদলি করে আনা যায় কিনা সেই ব্যাপারটি মুখ্যমন্ত্রীর গোচরে তিনি নিয়ে যান। কারণ তার পরিবারের মানসিক অবস্থা ভালো নয়। তরতাজা ছেলেকে হারিয়েছে এই পরিবার। স্বাভাবিকভাবেই সকলেই ভেঙে পড়েছে মানসিকভাবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন তাকে একটি চিঠি দেওয়ার জন্য তিনি বিষয়টি দেখবেন। তার ছোট ছেলে সোশিওলজি তে গ্রেজুয়েশন করছে। এখনো কমপ্লিট হয়নি। ছেলের জন্য যদি কিছু একটা করা যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন বায়োডাটা দিতে। তিনি কি করা যায় দেখবেন। এদিকে সর্বভারতীয় চাকমা স্টুডেন্ট ইউনিয়নের সভাপতি দৃশ্যমণি চাকমা বলেন, গোটা ঘটনাটি মর্মান্তিক এবং হৃদয় বিদারক। তিনি পুলিশের তদন্ত নিয়ে অভিযোগ তুলেন। তদন্তে গাফিলতি করা হচ্ছে বলে তার অভিযোগ। বিষয়টি সম্পর্কে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। স্বাভাবিকভাবেই মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাক্তার মানিক সাহার উপস্থিতিতে কিছুটা হলেও সতেজতার সঞ্চার হল প্রয়াত এঞ্জেল চাকমার পরিবারে।

