স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১০ জানুয়ারি : মেলার চাঁদা সংগ্রহ ঘিরে লংকা কান্ড তৈরি হলো ফটিকরায় শিমুলতলা এলাকায়। আগামী ২৪ থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত এলাকায় ভৈরব মেলার আয়োজন করা হবে। মেলাকে সামনে রেখে উদ্যোক্তারা গাড়ি চালকদের কাছ থেকে বড় মাপের চাঁদা আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ী শনিবার সকালে চাঁদা আদায়ের সময় এক গাড়ির চালকের সাথে ঝামেলা বাধে উদ্যোক্তাদের। তখন গাড়ি চালক গাড়ির মালিক মসব্বির আলীকে খবর দিলে তিনি এসে চাঁদার পরিমাণ শুনে রীতিমতো ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন।
পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উত্তেজিত হয়ে উঠলে চাঁদা আদায়কারীরা রাস্তা অবরোধ করে। পরে এলাকার বাড়িঘর, দোকানপাট, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং গাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী এবং দমকল কর্মীরা। ঘটনার তীব্রতা বাড়তে থাকায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান ঊনকোটি জেলার জেলা পুলিশ সুপার বর্তমানে ছুটিতে তার জন্য বর্তমানে উওর জেলার পুলিশ সুপার অবিনাশ রাই। আগুন নেভানোর পাশাপাশি পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে শূন্যে গুলি চালাতে হয় বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে গোটা এলাকা পুলিশ ঘেরাও করে রেখেছে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এখনও পর্যন্ত হতাহতের সরকারি কোনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করতে তৎপর পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি মোকালবিলা করেছে। কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ মামলা নিয়ে ঘটনা তদন্ত করবে। ঘটনার পর জেলা শাসক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ১৬৩ ধারা বলবৎ করেছে। এলাকাই রোডমার্চ করা হবে। আরো কয়েকজন গ্রেপ্তার হতে পারে বলে জানান জেলা পুলিশ সুপার। পরিস্থিতির উপর প্রশাসনের কড়া নজর রয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। এদিকে সি.পি.আই.এম-এর কৈলাশহর বিভাগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে এই ঘটনা নাকি মন্ত্রী সুধাংশু দাসের নেতৃত্বে হয়েছে। বিজেপি এবং আরএসএস -এই সন্ত্রাস করেছে। তাদের ষড়যন্ত্রের কারণে এই ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এর তীব্র নিন্দা জানান ভারতের কমিউনিস্ট মার্কসবাদী পার্টির নেতৃত্ব।

