স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৬ জানুয়ারি :বাংলাদেশে একের পর এক সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে আসছে। এই ঘটনাগুলি যতই সামনে আসছে এপারের মানুষ ততই ক্ষোভে ফুঁসছে। মঙ্গলবার ধর্মনগর বি বি আই মাঠ থেকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের উত্তর ত্রিপুরা জেলা সমিতির উদ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিল সংঘটিত হয়। মিছিলটি ধীরে ধীরে সীমান্তবর্তী কাঁটাতারের দিকে এগিয়ে যায়। সেখানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্যরা। তারা দাবি জানান, যতদিন না পর্যন্ত বাংলাদেশে সংখ্যালঘুর উপর নির্যাতন বন্ধ হবে ততদিন যেন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের আমদানি রপ্তানি বন্ধ থাকে।
নাহলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। কারণ কোনভাবেই সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন বরদাস্ত করবে না বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সেখানে এভাবে নির্যাতন অনেক হয়েছে। আর কোন নির্যাতন যাতে সামনে না আসে তার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দেন এদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন সংগঠনের কনভেনার বীরেন্দ্র চন্দ্র দাস।বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথমেই সংগঠনের পক্ষ থেকে রাগনা ল্যান্ড কাস্টমসের সুপারিন্টেনডেন্ট অফ কাস্টমস-এর কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে অবিলম্বে রাগনা সীমান্ত বন্ধ করা, অপ্রয়োজনীয় সব ধরনের সীমান্ত কার্যকলাপ স্থগিত রাখা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সমস্ত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার জোরালো দাবি জানানো হয়।পাশাপাশি বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও সংশ্লিষ্ট উচ্চতর কর্তৃপক্ষের নজরে আনার অনুরোধ করা হয়। এছাড়াও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকে রাগনা সীমান্তের বিএসএফ’এর কোম্পানি কমান্ড্যান্টের কাছেও পৃথক একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
সেখানে অবিলম্বে রাগনা বর্ডার বন্ধ করা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সব ধরনের দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য স্থগিত রাখার দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের উত্তর ত্রিপুরা জেলা সভাপতি মনোজ ধর, সম্পাদক প্রতাপ রঞ্জন দেব, রুপালি অধিকারী সহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব, কর্মী ও সমর্থকরা। বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সীমান্ত ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক জয়ন্ত কর্মকার। পাশাপাশি ধর্মনগর ও কদমতলা থানার ওসি সহ বিএসএফ, সিআরপিএফ, টিএসআর এবং জেলা পুলিশের বিপুল সংখ্যক বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

