Thursday, March 12, 2026
বাড়িরাজ্যমুখ্যমন্ত্রীর কাছে সমস্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে, ক্ষতিগ্রস্ত শান্তিরবাজার পরিদর্শনের পর বলেন...

মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সমস্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে, ক্ষতিগ্রস্ত শান্তিরবাজার পরিদর্শনের পর বলেন মন্ত্রী সুধাংশু দাস

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৩১ অক্টোবর :    তিপরা মথার বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন জঙ্গি রঞ্জিত দেববর্মার নেতৃত্বে ২৩ অক্টোবর রাজ্যব্যাপী ২৪ ঘন্টার বনধ ছিল। এই বনধ ঘিরে যে অশান্তির পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল তার নয়দিন আজ। বৃহস্পতিবার রাতের বেলা ধলাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৬৩ ধারা প্রত্যাহার করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে দাবি করা হয়েছে। অথচ তদন্ত প্রক্রিয়া হিমঘরে।

শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা নির্দেশে মন্ত্রী সুধাংশু দাস, মন্ত্রী বিকাশ দেব্বর্মা, প্রদেশ বিজেপি সহ সভাপতি সুবল ভৌমিক, বিজেপি জনজাতি মোর্চার সহ সম্পাদক বিপিন দেব্বর্মা শান্তির বাজারের ক্ষতির স্তুপ পরিদর্শনে যান। তাদের সাথে ছিলেন এলাকার বিধায়িকা স্বপ্না দাস পাল। প্রতিনিধিদল দল এসে পুরো বাজার ঘুরে দেখেন। বাজারের লন্ডভন্ড অবস্থায় আছে, যা তারা স্বচক্ষে পার্থক্য করেছেন। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে ঘটনার সম্পর্কে আরো বেশি বিস্তারিত অবগত হয়েছেন। এরপর মন্ত্রী সুধাংশু দাস জানান মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে তাঁরা ঘটনাস্থল এসেছেন। ২৩ অক্টোবর সিভিল সোসাইটির ডাকা বন্ধের নামে যে তান্ডব চালানো হয়েছে তাতে শুধু বাঙালি অংশের মানুষ নয়, জনজাতি ব্যবসায়ীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, সিক্রেট সোসাইটির নামে যারা রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের এমন কার্যকলাপের জন্য নিন্দা জানানো হচ্ছে। সরকার সব সময় শান্তি সম্প্রীতি কথা বলে। জাতি জনজাতি কেউ কাউকে বাদ দিয়ে চলতে পারবে না। যারা এ ধরনের ঘটনা থেকে বিরত থাকতে বলেন মন্ত্রী সুধাংশু দাস।

কিন্তু প্রশ্ন হল মনকে শতাংশ দাস মুখে বলেছেন এই ধরনের ঘটনা থেকে বিরত থাকার জন্য? কেন একবারের জন্য যারা এই ঘটনার জন্য মূলত দায়ী তাদের জালে তোলার সাহসটুকু দেখাতে পারছে না প্রশাসন? সরকার এবং মন্ত্রীরা নাম উল্লেখ না করার চেষ্টা করলেও, জনগণ ভালো করেই জানে আসলে সর্ষে ভূত রয়েছে। রাঘব বোয়ালদের বিরুদ্ধে জনগণ বিচার চাইলেও কতটা মিলবে সেটা সংশয় রয়েছে। মন্ত্রী সুধাংশু দাস বলেন, কমলপুর থেকে আগরতলা ফিরে মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা এবং প্রদেশ বিজেপির সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্যকে সমস্ত রিপোর্ট দেওয়া হবে। এই ঘটনার সাথে কারা যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত জানানো হবে। যাইহোক বনধের নাম করে কমলপুর মহকুমা শান্তিরবাজরে সিভিল সোসাইটির পিকেটাররা যে অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল, সেই ঘটনার তদন্তের ফাইল চাপা দিয়ে রেখে চলেছে প্রশাসন। কারণ এই অশান্তির ঘটনার সাথে কারা জড়িত সেটা সকলের জানা। এখন পর্যন্ত এই ঘটনার সাথে যুক্ত থাকা ১ থেকে ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। উপর মহলের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ তদন্তের দুর্বলতা কাটাতে পারছে না। যার কারণে তদন্ত প্রক্রিয়া এগোচ্ছ না। কিন্তু গত ৯ দিন ভোরে কখনো জিবি হাসপাতাল, আবার কখনো বিভিন্ন মঞ্চে দাঁড়িয়ে দয়া মায়ায় গা ভাসাচ্ছেন রাজনৈতিক নেতৃত্ব।

অথচ সচেতন নাগরিক মহল ভালো করেই জানে এটা কাদের মিলি ঝুলি বনধ ছিল! তবে শান্তির বাজার বাসী এতটুকুই বুঝে যারা জনগণের শান্তি সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য এই ঘটনা সংঘটিত করেছে তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা নিতে হবে। জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করতে হবে প্রশাসনকে। কারণ এই শান্তির বাজারে ঘটনার জন্য দুর্বৃত্তদের সাথে দায়ী প্রশাসনও। প্রশাসন আগে থেকে যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখতো তাহলে দাঁড়িয়ে সিনেমা দেখতো না। পরবর্তী সময় প্রশাসন একাধিক নির্দেশিকা জারি করে দায় এড়িয়ে চলেছে বলে মনে করছে শান্তিরবাজার বাসী। এদিন মন্ত্রী নেতাদের পরিদর্শনের সময় স্থানীয়রা বাড়ির ঘর থেকে বের হয়ে এসে সাড়া জাগাতে দেখা যায়নি। এই ঘটনায় কলঙ্কিত হয়েছে প্রশাসন। মুখ খোলার হিম্মত পর্যন্ত নেই প্রশাসনিক আধিকারিকদের। জনগণ ভালো করেই জানে কান টানলে মাথা আসবে। সুতরাং, আর বলার অবকাশ নেই। এখন জনগণ মুখ্যমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছেন। শান্তিরবাজার বাসী আশাবাদী বিচার মিলবে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য