স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৪ সেপ্টেম্বর : ১৯৮০ -র দাঙ্গা নিয়ে কোনরকম তদন্ত কমিশন গঠন করে নি তৎকালীন কমিউনিস্ট সরকার। ১৯৯৬ সালে কমলপুর কলোনি বাজার এলাকায় নৃশংস গণহত্যার জন্যও দায়ী তৎকালীন কমিউনিস্টদের সরকার। বৃহস্পতিবার প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে তৎকালীন কমিউনিস্ট সরকারকে এভাবেই তুলোধুনো করলেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য। তিনি কমিউনিস্টের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে বলেন ১৯৮০ জুনের দাঙ্গার সময় কত মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, কতজন মানুষ ভিটে মাটি ছাড়া হয়েছে এবং কত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এর কোন তথ্য জনসম্মুখে রাখতে পারেনি কমিউনিস্ট সরকার। এতেই স্পষ্ট হয়ে যায় তৎকালীন কমিউনিস্ট সরকারের সঠিক চিন্তা ভাবনা এবং সৎ সাহস ছিল না।
পরবর্তী সময় যে তথ্য পাওয়া গেছে শাসক দলের কাছে এই দাঙ্গার অগ্রিম খবর ছিল। দুর্ভাগ্যের বিষয়, তৎকালীন শাসক দল পুলিশকে অগ্রিম খবর দেয়নি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ঘটনার ৩৬ ঘন্টা পরেও কোন সরকারি আধিকারিক মান্দাইয়ে যায়নি। এক সপ্তাহ সেখানে মৃতদেহের স্তুপ পড়ে থেকে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। কিন্তু কেউ সেখানে পৌঁছায়নি। আরো বলেন, তৎকালীন সর্বভারতীয় বিজেপি সভাপতি অটল বিহারী বাজপেয়ী ত্রিপুরায় এসে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার সম্পর্কে রাজ্য সরকারকে অবগত করে যায়। কিন্তু সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উদ্বেগের বিষয় হলো এই ঘটনার পর তৎকালীন শাসক দল কমিউনিস্ট সরকার দুঃখও প্রকাশ করেননি। এক দায় এড়াতে পারবে না তৎকালীন শাসক দল তথা বর্তমান বিরোধী দল সিপিআইএম।
এখন তারা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু কোন লাভ হবে না। কারণ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি তেলিয়ামুড়ায় গিয়ে সেটা ষ্পষ্ট করে দিয়েছে ৮০-র দাঙ্গার জন্য কারা দায়ী। আরো বলেন, ১৯৯৬ সালে কমলপুর কলোনি বাজার এলাকায় নৃশংস গণহত্যা করে ২৫ জনকে। পুলিশ যদি সঠিক সময়ের মধ্যে সেখানে পৌছাতো তাহলে এত মানুষের মৃত্যু হতো না। দুঃখের বিষয় এখন পর্যন্ত এই দাঙ্গার সাথে কারা জড়িত, এর কোন তথ্য শ্বেতপত্রে সামনে আনেনি সরকার। আরো লক্ষ্য করা গেছে ১৯৯৩ সালে সরকারের প্রতিষ্ঠিত হয়ে কমিউনিস্ট ১৯৯৪ সালে রাজ্যের শূন্য পদ পূরণের জন্য জঙ্গিদের বেছে নিয়েছিল।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে রাজ্যবাসীর ক্ষোভের মুখে পড়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। তিনি আরো বলেন গ্রাম পাহাড়ের মানুষকে বিভেদ সৃষ্টি করার জন্য তৎকালীন সরকার বহু চেষ্টা করেছে। সংসদে রাজীব ভট্টাচার্য আরো বলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণের পৌরহিত্যে ৫৬ তম জিএসটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গুলির মধ্যে দেখা গেছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে জিএসটিকে হ্রাস করা হয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে জিএসটিকে শূন্যের কোটায় আনা হয়েছে। এর জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানায় প্রদেশ বিজেপি সভাপতি।

