Wednesday, June 12, 2024
বাড়িখেলাসাইফার্টের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের পর শেষ ওভারের নাটকীয়তায় নিউ জিল্যান্ডের জয়

সাইফার্টের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের পর শেষ ওভারের নাটকীয়তায় নিউ জিল্যান্ডের জয়

স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক,৮ এপ্রিল: ছবির মতো সুন্দর কুইন্সটাউনের জন ডেভিস ওভালের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে রইল দারুণ লড়াইয়ে। তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারাল নিউ জিল্যান্ড। সুপার ওভারে হেরে সিরিজ শুরু করা কিউইরা পরের দুই ম্যাচ জিতে নিল দুর্দান্ত রান তাড়ায়। আইপিএলের কারণে সম্ভাব্য সেরা দলের ৮ জনকে ছাড়া ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নিল তারা। কুইন্সটাউনে শনিবার কুসাল মেন্ডিসের ৪৮ বলে ৭৩ রানের সঙ্গে কয়েকটি কার্যকর ইনিংস মিলিয়ে শ্রীলঙ্কা ২০ ওভারে তোলে ১৮২ রান। নিউ জিল্যান্ডকে রান তাড়ায় অনেকটা এগিয়ে দেন সাইফার্ট। ক্যারিয়ার সেরা ৮৮ রানের ইনিংস খেলেন তিনি ৪৮ বলে। তিনি ফেরার সময় নিউ জিল্যান্ডের জয় মনে হচ্ছিল স্রেফ সময়ের ব্যাপার। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে তাদের দরকার ছিল ২৩ বলে ২৯ রান। কিন্তু বাকি সময়টায় লড়াই জমে ওঠে দারুণ। শেষ ওভারে কিউইদের প্রয়োজন পড়ে ১০ রানে। শেষ ওভারে লাহিরু কুমারার প্রথম বলেই স্লোয়ারটি ধরতে পেরে ছক্কায় উড়িয়ে দেন মার্ক চাপম্যান। সমীকরণ তখন জলের মতো সহজ। কিন্তু ক্রিকেট শেষ বলে যে কিছু নেই! পরের বলেই আরেকটি বড় শটের চেষ্টায় আউট চাপম্যান।পরের বলটি স্টাম্পের বাইরে ইয়র্কার, এত বাইরে যে আম্পায়ার ডাকলেন ‘ওয়াইড।’ সেটিতেই রান চুরির চেষ্টায় রান আউট জিমি নিশাম। নাটক জমে উঠল এর পরের বলে। এবার স্টাম্পের বাইরের শর্ট বল তুলে মারার চেষ্টায় আউট ড্যারিল মিচেল। তিন বলে তখন ওয়োজন তিন রান। কঠিন নয়, কিন্তু মোমেন্টাম সঙ্গী শ্রীলঙ্কার।

চতুর্থ ডেলিভারি ব্যাটে-বলে করতে ব্যর্থ অ্যাডাম মিল্ন। কিপারের কাছে বল রেখেই দুই ব্যাটসম্যান ছুটলেন রান নিতে। দুই প্রান্তেই রান আউটের সুযোগ হাতছাড়া আর একটি রান। এরপরই উত্তেজনার সমাপ্তি। পঞ্চম বলটি স্টাম্পের বাইরে লেংথ বল পেয়ে কাট করে পয়েন্ট সীমানায় পাঠিয়ে অনায়াসে দুই রান নিয়ে দলকে জেতালেন রাচিন রবীন্দ্র।সাইফার্ট যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন, এত নাটকীয়তা তখন ছিল ধারণার বাইরে। আগের ম্যাচে ৪৩ বলে ৭৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। এই ম্যাচে শুরু করেন যেন সেখান থেকেই। প্রথম ওভারে ছক্কায় ছুটতে থাকে রান তাড়া। প্রায় প্রতি ওভারেই চার-ছক্কায় তিনি এগোতে থাকেন। তার উদ্বোধনী জুটির সঙ্গী চ্যাড বাওয়েস ছিলেন যেন স্রেফ দর্শক। ৫৩ রানের উদ্বোধনী জুটি শেষে যখন আউট হলেন বাওয়েস, তার নামের পাশে রান ১৮ বলে ১৭। সাইফার্ট তখন খেলছেন ১৫ বলে ৩৬ রানে! পরের জুটির শুরুতেও একই অবস্থা। অধিনায়ক টম ল্যাথামের কাজ ছিল স্ট্রাইক দেওয়া, সাইফার্টের ব্যাট ছিল উত্তাল। ভানিন্দু হাসারাঙ্গাকে ছক্কায় উড়িয়ে ফিফটিতে পৌঁছে যান তিনি ২৬ বলে। 

ফিফটির পরও তিনি ছুটতে থাকেন। ল্যাথামও পরে বাড়ান রানের গতি। ৫২ বলে ৮৪ রানে থামে এই জুটি। ২৩ বলে ৩১ রান করে ল্যাথাম বিদায় নেন মাহিস থিকসানার ক্যারম বলে। তার পরও নিউ জিল্যান্ডের কোনো বিপদ বোঝা যায়নি, সাইফার্ট যে ছিলেন! ল্যাথামের বিদায়ের পরের ওভারেই হাসারাঙ্গাকে টানা দুটি বাউন্ডারিতে নিজের আগের সেরা ৮৪ পেরিয়ে যান তিনি। তবে সেঞ্চুরি আর পাওয়া হয়নি। প্রামোদ মাদুশানের স্লোয়ারে আউট হন তিনি ১০ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৮ করে।নতুন ব্যাটসম্যান চাপম্যান ক্রিজে গিয়ে প্রথম বলেই মারেন বাউন্ডারি। ২২ বলে লাগে তখন স্রেফ ২৫ রান। কিন্তু সেই পথটুকু মসৃণ হয়নি তাদের। সহজ পথ কঠিন বানিয়ে তবেই জিততে পারে তারা। 

নিউ জিল্যান্ডের চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হতে পারত, যদি ব্যাটিংয়ের শেষটা ভালো করতে পারত তারা। ১২ ওভার শেষে তাদের রান ছিল ১ উইকেটে ১০৭। সেখান থেকে ২০০ রানে চোখ তো থাকারই কথা! টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটিতে তোলে ৭৬ রান। তবে কুসাল মেন্ডিস ঝড় তুললেও পাথুম নিসানকা মেটাতে পারেননি পরিস্থিতির দাবি। দশম ওভারে তিনি আউট হন ২৫ বলে ২৫ রান করে। শ্রীলঙ্কার রানের গতি বাড়ে পরের জুটিতেই। কুসাল মেন্ডিস ও কুসাল পেরেরা ৪৬ রান যোগ করেন ৪.২ ওভারে। ৬ চার ও ৫ ছক্কায় ৪৮ বলে ৭৩ করে বিদায় নেন মেন্ডিস। পেরেরা রান আউট হন ২১ বলে ৩৩ করে। এরপর ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ৯ বলে ২০ রান করলেও শেষ দিকে দ্রুত কিছু উইকেট হারায় লঙ্কানরা। শেষ ওভার থেকে আসে স্রেফ রান। ওই ওভারে আর কয়েকটি রান হলেও নিউ জিল্যান্ডের কাজটা হতো আরও কঠিন। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৮২/৬ (নিসানকা ২৫, কুসাল মেন্ডিস ৭৩, কুসাল পেরেরা ৩৩, ধনাঞ্জয়া ২০, শানাকা ১৫, আসালানকা ৩, হাসারাঙ্গা ০*, থিকসানা ০*; হেনরি ৪-০-৩৩-০, মিল্ন ৪-১-৩০-১, লিস্টার ৪-০-৩৭-২, সোধি ৪-০-৩০-১, নিশাম ২-০-২২-০, রবীন্দ্র ২-০-২৭-০)। 

নিউ জিল্যান্ড: ১৯.৫ ওভারে ১৮৩/৬ (বাওয়েস ১৭, সাইফার্ট ৮৮, ল্যাথাম ৩১, মিচেল ১৫, চাপম্যান ১৬, নিশাম ০, রবীন্দ্র ২*, মিল্ন ০*; রাজিথা ৪-০-৩৪-০, থিকসানা ৪-০-২২-১, মাদুশান ৪-০-৩৮-১, কুমারা ৩.৫-০-৩৮-৩, হাসারাঙ্গা ৪-০-৪১-০)। 

ফল: নিউ জিল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে নিউ জিল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: টিম সাইফার্ট।

ম্যান অব দা সিরিজ: টিম সাইফার্ট।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য