Wednesday, February 8, 2023
বাড়িখেলাআড়ালে থাকা একমাত্র বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন!

আড়ালে থাকা একমাত্র বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন!

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা,২ ডিসেম্বর: বিশ্বকাপ ইতিহাসের আট চ্যাম্পিয়নের মধ্যে ইতালি ছাড়া কাতারের আসরে খেলছে সবাই। ব্রাজিল, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ইংল্যান্ড, স্পেন ও উরুগুয়ে এবার নোঙর ফেলেছে মরুভূমিতে। এদের মধ্যে উরুগুয়ে ছাড়া বাকি সবাইকে নিয়ে আলোচনা চলছে কম-বেশি! রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল টানা দুই জয়ে নিশ্চিত করেছে গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হওয়া। ‘জি’ গ্রুপের সেরা হওয়ার লক্ষ্যে শুক্রবার ক্যামেরুনের মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা। গত দুই ম্যাচের পথচলায় তিতের দল গোল দিয়েছে ৩টি। কোনো ম্যাচেই প্রতিপক্ষ লক্ষ্যে রাখতে পারেনি কোনো শট। দুইবারের সেরা এবং কাতারে মুকুট ধরে রাখার মিশনে আসা ফ্রান্স একটি হারের তেতো স্বাদ পেলেও জিতেছে দুটিতে, গোল করেছে ৬টি। অস্ট্রেলিয়ার সমান পয়েন্ট নিয়ে হেড টু হেডে এগিয়ে থেকে হয়েছে ‘ডি’ গ্রুপের সেরা। আরেক দুইবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা সৌদি আরবের বিপক্ষে হার দিয়ে শুরু করলেও পরে টানা দুই জয়ে হয় ‘সি’ গ্রুপের সেরা, ৫ গোল দিয়ে লিওনেল স্কালোনির দল হজম করে দুটি। 

১৯৬৬ সালে প্রথম এবং সবশেষ শিরোপা জেতা ইংল্যান্ড দুই জয় ও এক ড্রয়ে ‘বি’ গ্রুপের সেরা হয়ে উঠেছে নকআউট পর্বে। তিন ম্যাচে ৯ গোল দিয়েছে গ্যারেথ সাউথগেটের দল। শেষ ম্যাচে জাপানের কাছে ২-১ গোলে হারলেও কোনোমতে ‘ই’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়েছে স্পেন। গত তিন ম্যাচে ৯ গোল দিয়ে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা খেয়েছে মাত্র ৩টি। ওই গোল ব্যবধানেই কপাল খুলেছে তাদের। এখন পর্যন্ত গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে বাজে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে জার্মানি। শেষ ম্যাচে কোস্টা রিকার বিপক্ষে জিতলেও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার হতাশা সঙ্গী হয়েছে তাদের। গোল ব্যবধানে স্পেনের পেছনে পড়ে যায় হান্স ফ্লিকের দল। বিশ্বকাপের প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়নদের প্রাপ্তির খাতায় নেই তেমন কোনো আচঁড়! ‘জি’ গ্রুপে তাদের শুরুটা দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে। এরপর আকাশি-নীল জার্সিধারীরা পর্তুগালের কাছে ২-০ গোলে হারে নীল হয়। থলিতে ১ পয়েন্ট আছে বটে, কিন্তু মরুপথ পাড়ি দিয়ে নকআউট পর্বে ওঠা তাদের জন্য বড়ই কঠিন। ‘এইচ’ গ্রুপে থেকে টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। ঝুলে থাকা বাকি তিন দলের মধ্যে ৩ পয়েন্ট নিয়ে সবার চেয়ে এগিয়ে ঘানা। দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উরুগুয়ের পয়েন্টও ১। তবে গোল পার্থক্যে পিছিয়ে তলানিতে কাভানি-সুয়ারেসরা। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় আল জানোব স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ঘানা ও উরুগুয়ে। বৈশ্বিক ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার দেখা হচ্ছে তাদের। তবে দুটি দল এ মুহূর্তে আলোচনায় প্রথম দেখার অম্ল-মধুর স্মৃতির কারণে। 

এক যুগ আগে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। জোহানেসবার্গের সেই ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের ১-১ সমতার পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিল আফ্রিকার দেশটি। আদিয়াহর হেড গোললাইন থেকে হাত দিয়ে পড়িমরি করে আটকান সুয়ারেস। উরুগুয়ের এই ফরোয়ার্ড পেয়েছিলেন লালকার্ড; ঘানা পেয়েছিল পেনাল্টি। কিন্তু সেদিন ঘানা ছিল দূর্ভাগা। আসামোয়া জিয়ানের শট লাগে ক্রসবারে। টানেলে যাওয়ার আগে জিয়ানের মিস দেখে বুনো উল্লাসে মাতেন সুয়ারেস। প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে খেলার খুব কাছে গিয়েও টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয় ঘানা। এবার দুই দলের দেখা গ্রুপ পর্বে। ঘানা আছে স্বস্তিতে, বিপদে উরুগুয়ে। ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে সেই কাণ্ড নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন সুয়ারেস। ৩৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড উত্তরও দিয়েছেন যুক্তি দিয়ে। “ওই ঘটনায় আমি দুঃখিত নই। আমি ক্ষমা চাইতাম, যদি কোনো খেলোয়াড়কে আঘাত করতাম। হ্যান্ডবলের জন্য আমাকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। (তাদের জিততে না পারার পেছনে) আমার দোষ ছিল না, কারণ আমি তো পেনাল্টি মিস করিনি।” সেবার না হয় ওই কাণ্ড করে উরুগুইয়ানদের কাছে নায়ক হয়েছিলেন সুয়ারেস। এবার কাতার বিশ্বকাপের জয়হীন থেকে, গোলের করতে না পারার ব্যর্থতা নিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে গেলে কিন্তু ঠিকই ‘ভিলেন’ হয়ে যাবেন তিনি।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য