Saturday, December 3, 2022
বাড়িখেলাজয়োল্লাস পরে, আগে গ্যালারি সাফ, জাপানি দর্শক জিতে নিচ্ছে মন

জয়োল্লাস পরে, আগে গ্যালারি সাফ, জাপানি দর্শক জিতে নিচ্ছে মন

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা,২৪ নভেম্বর: জার্মানির সঙ্গে খেলায় প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত মনকাড়া, অভাবনীয় জয়ের পর জাপানি দর্শকরা বাঁধভাঙা উল্লাসে ফেটে পড়তেই পারতেন; শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে মেতে উঠতে পারতেন হুল্লোডে, ভেসে যেতে পারতেন উৎসবের আনন্দে।এমন উপলক্ষ, তাও বিশ্বকাপে। বাঁধনহারা উদ্‌যাপন তো স্বাভাবিকই।অথচ জাপানি ফ্যানরা তা করলেন না; করলেন সেটিই, যা তাদের মজ্জাগত। ছোট থেকেই তারা যে ভালো আচরণ আর অভ্যাসে অভ্যস্ত, জার্মানির সঙ্গে জয়ের পরও রাখলেন তারই স্বাক্ষর।জয়োল্লাসকে অপেক্ষায় রেখে আগে করলেন গ্যালারি সাফসুতরো; তাদের এ কর্ম বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যম আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভূয়সী প্রশংসা আদায় করে নিচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।সাধারণত, শেষ বাঁশি বাজার পর দর্শকরা যখন গ্যালারি থেকে বের হতে থাকেন, তখন স্ট্যাডিয়ামের স্ট্যান্ডগুলোকে মনে হয় উচ্ছিষ্টের ভাগাড়। জায়গায় জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে ব্যবহৃত খাবারের ট্রে, প্যাকেট, পানীয়ের খালি ক্যান, কাপ। থরে থরে কাগজ আর কাপড়েরও যেন কমতি থাকে না।দর্শকরাও এগুলো ফেলে যান অন্য কারও জন্য, যারা সেগুলো পরিষ্কারের দায়িত্বে।কিন্তু না, সামুরাই ব্লু’রা শহরে থাকলে এমনটা হবে না। যেমনটা দেখল বুধবার কাতারের খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামও।

খেলা শেষ। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে ২-১ এ হারিয়ে জাপানের খেলোয়াড়রাও একে একে মাঠ ত্যাগ করছেন; আর এদিকে জাপানি দর্শকরা আনন্দ ‍উল্লাস খানিকক্ষণের জন্য চেপে রেখে লেগে পড়লেন গ্যালারি পরিষ্কারের কাজে।নিজের আসন আর আশপাশ তো সাফসুতরো করছেনই, দেখছেন দৃষ্টিসীমায় আর কোথাও কোনো আবর্জনার সন্ধান মেলে কিনা। মিললে সেখানে ছুট। তারপর সব একসঙ্গে পলিথিনে বেঁধে রেখে দিচ্ছেন একজায়গায়। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কাজ থাকলো কেবল সেসব পলিথিন সরিয়ে নেওয়া।  জাপানি দর্শকদের কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে বুধবার গ্যালারি পরিষ্কারের সময় অন্য অনেক দর্শকও তাদের সঙ্গী হয়েছেন।

চার বছর আগের রাশিয়া বিশ্বকাপেও এমনই করেছিলেন জাপানি দর্শকরা। বিশেষ করে শেষ ১৬-র ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে ৩-২ গোলে হেরে যাওয়ার পর তাদের গ্যালারি সাফের চিত্র এখনও অনেকেরই মনে থাকার কথা।এমনকী এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও জাপানি দর্শকরা খেলা শেষে গ্যালারি সাফে মন দিয়েছিল, পরে যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরালও হয়েছে।অথচ সেদিন, রোববার জাপানের খেলাই ছিল না। খেলেছিল কাতার ও ইকুয়েডর।পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জাপানের সংস্কৃতির অংশ; শিশুকাল থেকেই তাদের মধ্যে এ সংক্রান্ত বোধ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্বের অধ্যাপক স্কট নর্থ ২০১৮ সালে বিবিসিকে বলেছিলেন, স্কুলে জাপানিদের যে শিক্ষা দেওয়া হয়, তারই বিস্তৃত রূপ হচ্ছে খেলা শেষে গ্যালারি পরিষ্কার করা।জাপানে শিশুকালেই বাচ্চাদের তাদের স্কুলের শ্রেণিকক্ষ ও হলওয়ে পরিষ্কার রাখতে শেখানো হয়।গ্রুপ ই-তে জাপানের পরবর্তী খেলা রোববার, কোস্টারিকার সঙ্গে। পরে ২ ডিসেম্বর তারা মুখোমুখি হবে স্পেনের।মাঠের খেলায় জিতবে কিনা, তা পরের ব্যাপার; কিন্তু তাদের দর্শকরা তো এর মধ্যেই সবার মন জিতে নিয়েছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য