Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্যদুর্ঘটনা গ্রস্ত গাড়িতে সাত - আট ঘন্টা আটকে মৃত্যু লরি চালকের

দুর্ঘটনা গ্রস্ত গাড়িতে সাত – আট ঘন্টা আটকে মৃত্যু লরি চালকের

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৫ আগস্ট : সরকারি কোষাগরের লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করলেও আদতে দুর্যোগ মোকাবেলা দপ্তর প্রয়োজনের সময় কতটা ঢাল তলোয়ালহীন নিধিরাম সর্দারে পরিণত হয় তার দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে তেলিয়ামুড়া থানার অন্তর্গত চাকমাঘাট এলাকায়। এর সাথে সাথে চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়ে মহকুমা প্রশাসন।

 বলতে দ্বিধা নেই শুধুমাত্র মহকুমা প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ভূমিকার অভাবে এবং দুর্যোগ মোকাবেলা দপ্তরের প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাব একটা দুর্ঘটনা গ্রস্ত গাড়ি চালককে বাঁচাতে পারেনি, শত শত মানুষের সামনে সেই গাড়ির চালক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ঘটনার বিবরণে জানা যায় সোমবার রাত আনুমানিক আড়াইটা নাগাদ চাকমা ঘাট এলাকাতে জাতীয় সড়কের উপর ধর্মনগর থেকে আগরতলা গামী সিমেন্ট বুঝাই লরি দুর্ঘটনা গ্রস্ত হয়। এই দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট গাড়ির চালক দুর্ঘটনা গ্রস্থ হওয়ার পর গাড়ি থেকে বের হতে পারছিলেন না।

 এই দুর্ঘটনার ফলে গাড়ির সামনের অংশ চেপে গিয়ে চালকের শরীরের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। এই অবস্থাতে কাঞ্চনপুর এলাকার মাখনলাল দেবনাথের ছেলে মিহির লাল দেবনাথ বারবার কাতর ভাবে বাঁচার চেষ্টা করছিল। যে কোনভাবে তাকে যেন এখান থেকে বার করা হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় দুর্ঘটনার প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় পর্যন্ত তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসন কিংবা সরকারি কোষাগারের টাকায় পুষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলা দপ্তর অগ্নি নির্বাপক দপ্তরকে সাথে নিয়ে মৃত্যু পথযাত্রী মিহির লাল দেবনাথকে উদ্ধার করতে পারেনি। যদিও দুই থেকে তিনজন দুর্যোগ মোকাবেলা দপ্তরের কর্মী কোনভাবে উপস্থিত হয়েছিল কিছু একটা আয়রন কাটার যন্ত্র নিয়ে। যেটা কাজ করছিল না বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযোগ, এর পাশাপাশি জনৈক ডিসিএম সাহেব দুর্ঘটনা ঘটার প্রায় সাত ঘন্টা পর ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত হন। এলাকার মানুষ সম্মিলিতভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এইভাবে প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে দুর্ঘটনাগ্রস্থ এক গাড়ির চালকের করুন পরিণতির জন্য।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী দুর্ঘটনা ঘটেছে রাত্রি আড়াইটা নাগাদ, প্রশাসনিক দল নয়টা ৪০ মিনিটের নাগাদ পৌঁছায়। অবশেষে মিহির লাল দেবনাথের নিথর দেহ উদ্ধার করে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে দায়িত্ব খালাস করে। এই দুর্ঘটনা একদিকে যেমন ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে ঠিক অন্যদিকে আরও একবার প্রমাণ করলো যতই কাগজে-কলমে দুর্ঘটনা মোকাবেলায় দুর্যোগ মোকাবেলা বিভাগকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হোক না কেন সময় আসলে সবাই রীতিমতো ব্যর্থ হিসেবে পরিচয় বহন করে। তবে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের সীমিত ক্ষমতার মধ্যে দাঁড়িয়ে টিএসআর বারো ব্যাটেলিয়ানের বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে বলে খবর।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য