নয়াদিল্লি, ২৩ সেপ্টেম্বর (হি.স.): ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের মধ্যে তথাকথিত মতপার্থক্য এবং দুই নির্বাচন কমিশনারের উত্থাপিত আপত্তির খবর প্রকাশিত হয়েছে একটি ইংরেজি দৈনিকে| এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার নির্বাচন কমিশন এই ধরনের দ্বিমতকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছে। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, যেকোনও গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংস্থায় আলোচনা-পর্যালোচনার সময় বিভিন্ন মতামত, আপত্তি ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ারই অংশ। সমস্ত নীতিগত এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ কমিশনের সর্বসম্মতিতেই নেওয়া হয়।
কমিশনের ডেপুটি ডিরেক্টর পি পবনের জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, খসড়া তৈরির পর্যায়ে সদস্যদের উত্থাপিত প্রশ্ন, মন্তব্য এবং পরামর্শ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ারই অংশ। এগুলোর উদ্দেশ্য হলো ভোটারদের অধিকার রক্ষা করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উন্নতি সাধন করা। কমিশনের মতে, তিনজন নির্বাচন কমিশনার-সহ প্রত্যেক কর্মকর্তারই নির্বাচনী ব্যবস্থার উন্নতির জন্য পরামর্শ দেওয়ার অধিকার রয়েছে। আরও বলা হয়েছে, সংবিধানের ৩২৪ ধারা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন একটি বহু-সদস্যবিশিষ্ট সাংবিধানিক সংস্থা। কমিশন জানিয়েছে, স্বচ্ছতা, আইনি বাধ্যবাধকতা এবং পরিচালনগত নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে লিখিত নোট, মন্তব্য, কারিগরি পরামর্শ এবং অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বজায় রাখার ব্যবস্থা তাদের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ।
কমিশনের বক্তব্য, তাদের সমস্ত সরকারি আদেশ, সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক নির্দেশিকা 'প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (নিয়োগ, চাকরির শর্তাবলী এবং পদের মেয়াদ) আইন, ২০২৩'-এ নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারেই নেওয়া হয়। গত ১০ মাসের কিছু অভ্যন্তরীণ নোট বা মন্তব্যকে সামনে রেখে সামগ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে বিচার করা পুরো পরিস্থিতির একটি আংশিক চিত্র তুলে ধরে। কমিশন আরও জানিয়েছে, বিগত কয়েক মাসে ভোটার তালিকা সংশোধন, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-সহ বহু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ এবং প্রায় ৪০টি নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সমস্ত সিদ্ধান্তই গত এক বছরে সম্পূর্ণভাবে কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ফল।
উল্লেখ্য, বুধবার প্রকাশিত একটি ইংরেজি দৈনিকের রিপোর্টে দাবি করা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনে অপর দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই আপত্তিগুলি নতুন ভোটার নিবন্ধনের ফর্ম-৬-এ পরিবর্তন, ভোটার ডাটাবেসের কেন্দ্রীকরণ, রাজ্য স্তরের নির্বাচন আধিকারিকদের ক্ষমতা এবং পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর চলাকালীন দায়ের করা আপিল-সহ বিভিন্ন বিষয়ে ছিল।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান