লেহ, ১ মে (হি. স.) : বুদ্ধ পূর্ণিমার পুণ্য লগ্নে লাদাখে ভগবান বুদ্ধের পবিত্র দেহাবশেষের প্রথম জাতীয় প্রদর্শনীর উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দীর্ঘ ৭৫ বছর পর এই পবিত্র নিদর্শনগুলির লাদাখে আগমনের বিষয়কে একটি ঐতিহাসিক ও সৌভাগ্যময় মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এটি সমগ্র মানবজাতিকে শান্তি, সহাবস্থান এবং বুদ্ধের দেখানো পথের চিরন্তন বার্তা দেয়। ভারতের সভ্যতা হাজার হাজার বছর ধরে জ্ঞান ও করুণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং বর্তমান সময়ে বুদ্ধের এই শিক্ষার প্রাসঙ্গিকতা আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
লেহ-র জেভেটসল ময়দানে আয়োজিত এই বিশাল ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লাদাখের উপরাজ্যপাল বি.কে. সাক্সেনা, লাদাখ বৌদ্ধ সংঘের সভাপতি সেরিং দোরজে লাকরুক এবং বিভিন্ন বৌদ্ধ মঠের প্রধান ও বিশিষ্ট আধ্যাত্মিক গুরুরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রথাগত লামা বাদন, দীপ প্রজ্বলন এবং তিব্বতি ও লাদাখি লোকনৃত্যের মাধ্যমে অঞ্চলের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বুদ্ধের জীবনের অলৌকিক সংযোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, লুম্বিনীতে জন্ম, জ্ঞানপ্রাপ্তি এবং মহাপরিনির্বাণ—সবই এক তিথিতে ঘটা বুদ্ধের জীবনকে আরও বিশিষ্ট করে তুলেছে।
অমিত শাহ তাঁর বক্তব্যে লাদাখকে বুদ্ধের ধর্মের ভূমি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন যে, দলাই লামা এই ভূমিকে বৌদ্ধ সংস্কৃতি ও করুণার এক জীবন্ত গবেষণাগার হিসেবে অভিহিত করেছেন। সম্রাট অশোকের সময়কাল থেকেই এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ ধর্ম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রসারিত হয়েছিল। প্রাচীন সিল্ক রুটের মাধ্যমে লাদাখ কেবল বাণিজ্যের নয়, বরং মহান চিন্তাধারা আদান-প্রদানের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। নিংমা, কাগ্যু, সাক্য এবং গেলুগের মতো বৌদ্ধ ঐতিহ্যের মূল বার্তা বর্তমান বিশ্বের অস্থিরতা দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে।
১৮৯৮ সালে কপিলাবস্তুর পিপরাহওয়া স্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া এই পবিত্র দেহাবশেষগুলি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার। বর্তমানে এগুলি দিল্লির জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রদর্শনীর সূচি অনুযায়ী, ১ মে থেকে ১০ মে পর্যন্ত এই অবশেষগুলি জেভেটসল ময়দানে রাখা হবে। এরপর ১১ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত জাঁস্কর এবং লেহ-র অন্যান্য কেন্দ্রে সাধারণ মানুষের দর্শনের জন্য রাখা হবে এবং ১৫ মে তা পুনরায় দিল্লিতে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। ভারতের ১০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রায় ১৫টি দেশের রাষ্ট্রদূত এই পবিত্র স্মারক দর্শনে লাদাখে উপস্থিত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উপরাজ্যপাল বি.কে. সাক্সেনা জানান যে, এই আয়োজন লাদাখের আধ্যাত্মিক পর্যটনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে অহিংসার বার্তা ছড়িয়ে দেবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর বক্তব্যের শেষে আশা প্রকাশ করেন যে, সমগ্র বিশ্ব বুদ্ধের ‘মধ্যম পন্থার’ দর্শন গ্রহণ করবে এবং যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তির পথে অগ্রসর হয়ে স্থিরতা বজায় রাখবে।

