স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক ২৩ ফেব্রুয়ারি : অবতরণের সময় দুর্ঘটনার কবলে বায়ুসেনার তেজস যুদ্ধবিমান। রানওয়ে থেকে ছিটকে কার্যত দুমড়ে মুচড়ে গেল তেজসের কাঠামো। সৌভাগ্যবশত দুর্ঘটনার মুহূর্তে বিমান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন পাইলট। ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই বলে জানা গিয়েছে। তবে দুর্ঘটনার জেরে বিমানটি যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাতে বায়ুসেনা আরও একটি তেজস হারাল বলেই মনে করা হচ্ছে।
জানা যাচ্ছে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি এই দুর্ঘটনা ঘটে। সাধারণ প্রশিক্ষণ সেরে সেনাঘাঁটিতে ফিরছিল বিমানটি। তবে অবতরণের সময়ে কাজ করেনি বিমানের ব্রেক। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, কোনওভাবে ব্রেক ফেল করেছিল বিমানটির। নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে পড়েও শেষ মুহূর্তে বিমানের দরজা খুলে লাফিয়ে পড়েন পাইলট। পরমুহূর্তেই রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে বিমানটি। পাইলটের কোনও আঘাত লাগেনি বলেই জানা গিয়েছে। এতদিন এই দুর্ঘটনা নিয়ে সরকারের তরফে কোনও বিবৃতি না এলেও সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে এই দুর্ঘটনার কথা।
তবে তেজস দুর্ঘটনায় সতর্ক হয়ে উঠেছে বায়ুসেনা। জানা যাচ্ছে, দুর্ঘটনার পর প্রায় ৩০টি এক আসন বিশিষ্ট তেজসকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিমানগুলিতে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত কমিটির তরফে সবুজ সংকেত মিললেই ফের আকাশে উড়বে বায়ুসেনার ভরসার তেজস। উল্লেখ্য, বায়ুসেনার অত্যন্ত ভরসার যুদ্ধবিমান তেজস। আকাশে শত্রুপক্ষকে কাবু করতে এই জুড়ি নেই। অতীতে বারবার সে কথা প্রমাণ করেছে সম্পূর্ণ দেশিয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস। ঘাটতি মেটাতে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে হিন্দুস্থান এরোনটিক্স লিমিটেড (হ্যাল)-কে ৮৩টি তেজস যুদ্ধবিমান তৈরির বরাত দিয়েছিল প্রতিরক্ষামন্ত্রক। পরে আরও ৯৭টি তেজস তৈরির বরাত দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, এই নিয়ে তৃতীয়বার দুর্ঘটনার কবলে পড়ল তেজস। এই বিমানে প্রথম দুর্ঘটনা ঘটেছিল ২০২৪ সালের মার্চে রাজস্থানের জয়সলমেঢ়ের কাছে। যদিও শেষ মুহূর্তে বিমান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন পাইলট। দ্বিতীয়বার দুবাইতে এয়ার শো চলাকালীন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তেজস। এই দুর্ঘটনায় শহিদ হন বায়ুসেনার উইং কমান্ডার নমন স্যাল।

