স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক ২০ ফেব্রুয়ারি : ইরানের আকাশে যুদ্ধের সিঁদুরে মেঘ। যে কোনও মুহূর্তে ইরানে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা। সমুদ্র থেকে শুরু করে ইরানের পার্শ্ববর্তী মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে সামরিক কার্যকলাপ ব্যাপকভাবে বাড়াতে শুরু করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাড়তে থাকা উত্তেজনার মাঝেই এবার ইরান ইস্যুতে মুখ খুলল বিদেশমন্ত্রক। শুক্রবার বিবৃতি জারি করে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানালেন, ‘ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির উপর গভীরভাবে নজর রাখছে ভারত।’
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র। সেখানেই ইরান ইস্যুতে প্রশ্ন উঠলে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ”ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত। একইসঙ্গে সে দেশে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গেও লাগাতার যোগাযোগ রেখেছে ভারত সরকার।” তবে যে কোনও মুহূর্তে ইরানে ভয়াবহ কিছু ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা করছে বিশ্ব। ইরানকে বোঝাপড়ায় আসার জন্য ১০-১৫ দিন সময় বেঁধে দিয়েছেন ট্রাম্প। পালটা রাষ্ট্রসংঘের দ্বারস্থ হয়েছে তেহরানও। লাগাতার মার্কিন হুঁশিয়ারির পালটা রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে একটি চিঠি লিখেছে তেহরান।
ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ইরানের পার্শ্ববর্তী “শত্রু বাহিনীর” সমস্ত ঘাঁটি, সুযোগ-সুবিধা এবং সম্পদকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে তার। প্রয়োজনে সেখানে হামলা চালাবে তারা। রাষ্ট্রসংঘকে দেওয়য়া বার্তায় আরও বলা হয়েছে, ইরান উত্তেজনা চায় না এবং হামাল না হলে যুদ্ধও শুরু করবে না।
উল্লেখ্য, বিগত কয়েকমাস ধরেই দু’দেশের মধ্যে সংঘাত চলছে। সাম্প্রতিক অতীতে ইরানের কাছে সমুদ্রে রণতরী, যুদ্ধবিমান এবং সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে আমেরিকা। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকার সেনা হোয়াইট হাউসকে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে যে তারা সপ্তাহান্তে ইরানে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত। আপাতত ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের অপেক্ষাতেই তারা রয়েছে। মার্কিন সরকারের উচ্চপদস্থ এক আধিকারিকের কথায়, “চলতি সপ্তাহেই ট্রাম্প কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি গোটা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছেন।” বর্তমানে পরমাণু চুক্তি নিয়েও ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে আলোচনা চলছে। ট্রাম্প কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, যদি ইরান চুক্তিতে সম্মত না হয়, তাহলে যুদ্ধ ছাড়া আর কোনও পথ খোলা থাকবে না। এই পরিস্থিতির মাঝেই এবার বিবৃতি এল ভারতের তরফে।

