স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক ১৩ ফেব্রুয়ারি : ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরেই চমক খালেদা-পুত্র তারেক রহমানের। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতার ফিরছে বিএনপি। শুক্রবার বাংলাদেশের নির্বাচনের ফল স্পষ্ট হতেই তারেককে অভিনন্দন জানাল চিন।
ঢাকার চিনা দূতাবাস একটি বার্তায় লিখেছে, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশের জনগণকে আমরা অভিনন্দন জানাই।’ পাশাপাশি, এই নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য বিএনপিকে ধন্যবাদ জানিয়েছে তারা। চিনা দূতাবাস লিখেছে, ‘চিন এবং বাংলাদেশের নতুন সরকার একসঙ্গে কাজ করবে। দুই দেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায় লিখবে।’
বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে চিনের সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে কৌতুহল গোটা বিশ্বের। কারণ, শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তবর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুসের আমলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক চিত্র আমূল বদলে গিয়েছে। যে দেশ এক সময়ে ‘ভারতবন্ধু’ ছিল তারাই চিন, পাকিস্তানকে কাছে টেনেছে। বেজিংয়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারত (সেভেন সিস্টার) ভেঙে ফেলার আকাশকুসুম স্বপ্ন দেখেছে ঢাকা। উত্তর-পূর্বের ৭ রাজ্যের সঙ্গে গোটা ভারতের সংযোগ করে ‘চিকেন নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডর। সূত্র মারফত জানা গিয়েছিল, ভৌগোলিক দিক দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলের কাছাকাছিই বাংলাদেশ সীমান্তে বায়ুসেনা ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনা করেছে ইউনুস সরকার। এমনকী চিনের আধিকারিকরা জায়গাটি পরিদর্শনও করে গিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছিল।
হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে আনাগোনা বাড়ে চিনা আধিকারিকদের। বিএনপি, জামাত-সহ বিভিন্ন দলের পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টা ইউনুসের সঙ্গেও বিভিন্ন সময়ে বৈঠক করেছেন তাঁরা। পহেলগাঁও হামলা ও অপারেশন সিঁদুর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ঘোলা জলে মাছ ধরতেও নেমে পড়ে চিন-বাংলাদেশ। জানা গিয়েছে, সীমান্তবর্তী রংপুরের লালমনিরহাট জেলায় বেজিংয়ের সহায়তায় বায়ুসেনাঘাঁটি তৈরি করতে চাইছে ঢাকা। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এই রংপুর ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে। সূত্রের খবর, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছেও এই বায়ুসেনা ঘাঁটি নির্মাণের খবর এসেছে। গোটা পরিস্থিতির উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, বায়ুসেনা ঘাঁটি নির্মাণ নিয়ে ইউনুস যে পরিকল্পনা করেছিল, সেটাই কি মসনদে বসে বাস্তবায়িত করবেন তারেক? নাকি চিনকে ভুলে ভারতের সঙ্গে জং ধরে যাওয়া সম্পর্ক মেরামতির কাজ করবেন খালেদা পুত্র? উত্তর দেবে সময়।
কেন এতটা গুরুত্বপূর্ণ চিকেন নেক? এই এলাকা ‘শিলিগুড়ি করিডর’ নামেও পরিচিত। শিলিগুড়ি শহরে অবস্থিত এই করিডর ভূকৌশলগত দিক দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশে এটির প্রস্থ প্রায় ২০ কিলোমিটার। নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ এই তিন দেশের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে শিলিগুড়ি করিডর। ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বের সাতটি রাজ্যকে বেঁধে রেখেছে এই সংকীর্ণ স্থলভাগ। যার তুলনা করা চলে মুরগির গলার সঙ্গে।
সমরশাস্ত্রের সূত্র মেনে ভারতের মতো মহাশক্তিধর দেশকে দুর্বল করতে এই শিলিগুড়ি করিডরকেই পাখির চোখ করেছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। তিনটি দেশের সীমান্ত এক জায়গায় মেশায় এই পথেই অস্ত্রশস্ত্র, মাদক ও জাল নোট ভারতে পাচার করার ছক কষেছে জেহাদিরা। পাশাপাশি সীমান্তের ছিদ্রপথে সন্ত্রাসবাদীদের এদেশে প্রবেশের রাস্তা তৈরি করারও পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এই চিকেন নেক টার্গেট পাকিস্তানেরও। এই অঞ্চলকে ভারতের থেকে আলাদা করে দিতে চায় চিনও। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ লাগলে চিনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ চিকেন নেককে নিশানা করতে পারে পাকিস্তান। সঙ্গী হতে পারে ‘নতুন’ বাংলাদেশও। কিন্তু সেই সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সব রকমভাবে প্রস্তুত ভারতও।

