স্যন্দন
ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১ সেপ্টেম্বর : অভাবের তাড়নায় দেড়
লাখ টাকার বিনিময়ে সদ্যজাত সন্তান বিক্রির ঘটনা সামনে এসেছে। সন্তান মায়ের পেটে থাকতেই আগাম টাকা নিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার মত অমানবিক ঘটনা
ঘটলো বিকশিত ত্রিপুরায়৷ ঘটনার সঙ্গে এক আশা কর্মী
জড়িত বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা শান্তিরবাজার মহকুমার লক্ষীছড়া ভিলেজের গিদ্দ্য কুমার পাড়ায়। শান্তিরবাজার মহকুমার লক্ষীছড়া ভিলেজের গিদ্দ্য কুমার পাড়ার এই ঘটনায় ফের
সামনে এলো গ্রামীণ ত্রিপুরার বাস্তব চিত্র। অভাবের তাড়নায় স্থানীয় আশা কর্মী মারফত দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে স্থানীয় দেশরাই পাড়ার দেবিকা রিয়াং নামে এক মহিলার কাছে
তার সন্তান বিক্রি করেছেন বলেও জানান এলাকাবাসী। সন্তান বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন হরেন্দ্র ত্রিপুরাও।
জানা গেছে, ২৫ আগস্ট বাইখোরা
প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে হরেন্দ্র ত্রিপুরার স্ত্রী মনিমালা ত্রিপুরা একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন৷ এর আগেও তাদের
চারজন সন্তান রয়েছে। জন্মের ২ দিন হাসপাতালে
থাকার পর হাসপাতাল থেকেই
সন্তানকে নিয়ে চলে যায় ক্রেতারা। প্রশাসনের নজর এড়াতে হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে মনিমালা ত্রিপুরার নাম না লিখে দেবিকা
রিয়াং - র নাম লেখা
হয়েছে বলে সূত্রে খবর। রবিবার অধিক রাতে স্থানীয় সাংবাদিকরা খবরটি পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ জেলার জেলা শাসক, জেলা সমাজ শিক্ষা আধিকারিক ও জেলা চাইল্ড
লাইনের নজরে নেন৷ চাইল্ড লাইনের কর্মীরা বাইখোরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে রেজিষ্ট্রারে মনিমালা ত্রিপুরার নাম দেখতে পাননি। যদিও অফিস বন্ধ থাকায় পুরো তথ্য দিতে পারেননি হাসপাতালে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীরা জানালেও খাতায় দেবিকা রিয়াং- র নাম দেখতে
পান তারা। এদিন রাতে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বাইখোরা থেকে প্রায় ১৬ কিমি দূরের
উপজাতি জনপদ গিদ্দ্য কুমার পাড়ায় গিয়ে ঘটনার সত্যতা খুঁজে পান চাইল্ড লাইন কর্মীরা৷ সন্তান বিক্রির কথা স্বীকার করেন সদ্যজাত শিশুটির পিতা হরেন্দ্র ত্রিপুরা। তখন জেলা চাইল্ড লাইন কর্তৃপক্ষ সোমবার সদ্যজাত শিশুটি সহ তাদের ৫
টি সন্তানকে নিয়ে বাইখোরা থানায় উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়। সেই অনুযায়ী সোমবার সকালে গোটা পরিবার বাইখোরা থানায় উপস্থিত হয়। এদিন সদ্যজাত শিশুটিকে বিলোনীয়ার চাইল্ড লাইন কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এখন দেখার বিষয় শিশু বিক্রির ঘটনায় যুক্ত সংশ্লিষ্ট আশা কর্মীর বিরুদ্ধে কি ভূমিকা গ্রহণ
করে প্রশাসন। তবে প্রশাসন যদি চায় তাহলে অভিযুক্ত আশা কর্মী সহ বাকিদের জালে
তুলতে পারে। কিন্তু প্রশাসন কোন এক অজ্ঞাত কারণে
পিছুপা হয়েছে বলে সূত্রে খবর। প্রশ্ন হল কেন বিষয়টি
ধাপাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তাহলে কি সর্ষে ভূত?
গোটা ঘটনা সঠিক তদন্তের দাবি।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান