স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৭ আগস্ট : মহিলা চিকিৎসকের বাড়িতে হামলার ঘটনা নিয়ে জল বহুদূর গড়িয়ে যাওয়ার পর সামনে এসেছে মূল কারণ। সামান্য একটি কলাগাছের ছড়ি কাটা নিয়ে মহিলা চিকিৎসকের পরিবারের সঙ্গে অপর এক পরিবারের বিবাদকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল সাব্রুম মহকুমার কলাছড়া এলাকার নারায়ণ দাস পাড়ায়। ঘটনাকে ঘিরে গীতা মজুমদার সেনের পরিবার এবং প্রতিবেশী বিশ্বজিৎ দেবনাথ ও অভিজিৎ দেবনাথের পরিবারের মধ্যে বচসা ও হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
পরে দুই পরিবারের বিবাদ থামাতে গিয়ে আহত হন প্রতিবেশী অনাথ বন্ধু দাস। যদিও ঘটনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়, রাতের দিকে সামাজিক মাধ্যমে পরিবারের সদস্য ডক্টর পারমিতা সেনের লাইভ ভিডিও ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই মৃণাল সেনের বাড়ির একটি কলাগাছের ছড়ি পাশের বাড়ি বিশ্বজিৎ দেবনাথ ও অভিজিৎ দেবনাথের বাড়ির কাপড় শুকানোর তারের উপর পড়ে ছিল। এতে কাপড় শুকানো সহ দৈনন্দিন কাজে সমস্যার সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ। প্রতিবেশীদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার মৃণাল সেনকে কলাগাছের ছড়িটি কেটে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, তিনি বিষয়টিতে গুরুত্ব দেননি। এরপর বিশ্বজিৎ অথবা অভিজিৎ ওই কলাগাছের ছড়িটি কেটে দেন বলে জানা যায়। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দুই পরিবারের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি এবং পরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে স্থানীয়দের দাবি। ঘটনার সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, মৃণাল সেনের হাতে একটি দা ছিল বলে তারা দেখতে পান। তাঁর স্ত্রীর হাতে ছিল বাঁশের লাঠি এবং তাঁদের ছেলের হাতে একটি বড় লোহার রড ছিল বলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। অন্যদিকে বিশ্বজিৎ দেবনাথ ও অভিজিৎ দেবনাথের হাতে কোনও ধরনের অস্ত্র দেখা যায়নি বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তবে ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। মৃণাল সেনের স্ত্রীর অভিযোগ, বিশ্বজিৎ ও অভিজিৎ দুই ভাই মিলে তাঁদের বাড়ির লোহার গেট ভেঙে ফেলেন এবং প্রায় আধঘণ্টা ধরে বাড়িতে ইট-পাটকেল ছোড়েন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেও এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। তবে পরদিন সকালে সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই লোহার গেট ভাঙা অবস্থায় দেখতে পাননি। গেটটি স্বাভাবিক ও অক্ষত অবস্থায় ছিল বলে জানা যায়। ফলে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এদিকে দুই পরিবারের ঝগড়া থামাতে গিয়ে মাঝখানে পড়ে আহত হন পাশের বাড়ির বাসিন্দা অনাথ বন্ধু দাস। কীভাবে তিনি আহত হয়েছেন, তা তিনি নিজেও স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না বলে জানা গেছে। তবে তাঁর আহত হওয়ার পরপরই পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং স্থানীয়দের উদ্যোগে দুই পরিবারের ঝগড়া মিটমাট হয়ে যায়। ঘটনার এখানেই শেষ হওয়ার কথা থাকলেও রাতের দিকে বিষয়টি নতুন মোড় নেয়। মৃণাল সেনের মেয়ে চিকিৎসক ডক্টর পারমিতা সেন প্রায় মধ্যরাতে সামাজিক মাধ্যমে লাইভে এসে তাঁর মা-বাবা ও ভাইয়ের নিরাপত্তা এবং আত্মরক্ষার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান। পারিবারিক বিবাদকে কেন্দ্র করে তাঁর এই লাইভ ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টি আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় মহলে শুরু হয় নানা আলোচনা ও চর্চা। রাতের ঘটনার সময় প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তম দের স্ত্রী শুক্লা দে। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে দিনের বেলার বিবাদ এবং রাতের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বেশ কিছু তথ্য সামনে আসে।
স্থানীয়
বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, একটি কলাগাছের ছড়ি কাটা নিয়ে শুরু হওয়া সামান্য প্রতিবেশী বিবাদ কীভাবে এতটা বড় আকার নিল, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। পাশাপাশি দুই পক্ষের পরস্পর বিরোধী অভিযোগ, অস্ত্র থাকার দাবি এবং লোহার গেট ভাঙার অভিযোগ নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরা পরদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে গেটটি অক্ষত অবস্থায় পাওয়ায় অভিযোগের বাস্তবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার জেরে এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত লাইভ ভিডিওর পর বিষয়টি নতুন
করে আলোচনায় এসেছে। সামান্য একটি কলাগাছের ছড়ি কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা
আর না ঘটে, সেজন্য
স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার মাধ্যমে সমাধানের দাবি উঠেছে। পুরো ঘটনায় কার অভিযোগ কতটা সত্য, তা নিরপেক্ষ তদন্তের
মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে। দুই পক্ষের বক্তব্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বক্তব্য নেওয়া হলে প্রকৃত ঘটনার ছবি আরও পরিষ্কার হবে। বর্তমানে নারায়ণ দাস পাড়ায় এই পারিবারিক বিবাদই
স্থানীয় বাসিন্দাদের আলোচনার কেন্দ্রে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান