Thursday, September 24, 2026
বাড়ি স্বাস্থ্য দূষিত বাতাসে ব্যায়াম: ঝুঁকির তুলনায় উপকার বেশি

দূষিত বাতাসে ব্যায়াম: ঝুঁকির তুলনায় উপকার বেশি

দূষিত বাতাসে ব্যায়াম: ঝুঁকির তুলনায় উপকার বেশি

 

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৪ সেপ্টেম্বর :  শহরাঞ্চলে বায়ুদূষণের মধ্যে ব্যায়াম করার ঝুঁকির তুলনায় এর স্বাস্থ্যগত উপকার সাধারণত বেশি। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, কোথায় এবং কখন ব্যায়াম করা হচ্ছে, তা বেছে নিলে দূষণের সংস্পর্শ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

BBC-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়ুদূষণের সঙ্গে হৃদ্রোগ, শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, ক্যানসার এবং অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে। PM2.5 নামে পরিচিত সূক্ষ্ম কণাগুলো ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে এবং রক্তপ্রবাহে মিশে শরীরের অন্যান্য অংশেও পৌঁছাতে পারে।

ব্যস্ত শহুরে এলাকায় দৌড়ানো বা সাইকেল চালানোর সময় দূষিত বাতাস শরীরে বেশি পরিমাণে প্রবেশ করতে পারে। কারণ ব্যায়ামের সময় মানুষ দ্রুত ও গভীরভাবে শ্বাস নেয়।

শহরের বাতাসে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড এবং ভূমিস্তরের ওজোনসহ বিভিন্ন দূষকও থাকতে পারে।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের সহযোগী অধ্যাপক অড্রে দে নাজেল জানিয়েছেন, বায়ুদূষণের কিছু ক্ষতিকর প্রভাব থেকেও ব্যায়াম শরীরকে সুরক্ষা দিতে পারে।

২০১৬ সালের একটি মডেলভিত্তিক গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, হাঁটা ও সাইকেল চালানোর স্বাস্থ্যগত উপকার দূষিত বাতাসের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির তুলনায় বেশি। তবে অত্যন্ত বেশি দূষণের পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করার ঝুঁকি উপকারের কাছাকাছি পৌঁছাতে বা তা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দূষিত পরিবেশে ব্যায়াম নিষ্ক্রিয় থাকার তুলনায় মৃত্যুঝুঁকি ২৬ শতাংশ কমার সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে অপেক্ষাকৃত পরিষ্কার বাতাসে ব্যায়ামের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি কমার হার ছিল ৩১ শতাংশ।

দূষণের মাত্রা অবশ্য ব্যায়াম থেকে পাওয়া উপকারের পরিমাণেও প্রভাব ফেলতে পারে। একটি গবেষণায় সুস্থ ব্যক্তি এবং দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুস বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত বয়স্কদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এতে দেখা যায়, পরিষ্কার বাতাসে হাঁটা ব্যক্তিদের ফুসফুস ও রক্তনালির কার্যকারিতায় ভারী যানবাহনের দূষণের মধ্যে হাঁটা ব্যক্তিদের তুলনায় বেশি উন্নতি হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা সম্ভব হলে পার্ক, অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি রাস্তা এবং কম যানজটপূর্ণ পথ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ভারী যান চলাচলকারী রাস্তা থেকে এক-দুই রাস্তা দূরে গেলেই দূষণের সংস্পর্শ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যস্ত সড়কের পরিবর্তে পাশের রাস্তা ব্যবহার করলে দূষণের সংস্পর্শ অর্ধেক পর্যন্ত কমতে পারে।

ব্যস্ত সময় বা ‘রাশ আওয়ার’ এড়িয়ে চলাও সহায়ক হতে পারে। কারণ স্থির হয়ে থাকা যানবাহনের কারণে নির্দিষ্ট এলাকায় দূষণের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। গরম ও রৌদ্রোজ্জ্বল বিকেলেও ভূমিস্তরের ওজোনের মাত্রা বাড়তে পারে।

BBC-এর প্রতিবেদনে স্থানীয় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা বায়ুর মানের সূচক পর্যবেক্ষণ করে কখন ও কোথায় ব্যায়াম করা হবে, তা ঠিক করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূষণের মাত্রা বেশি থাকলে ঘরের ভেতরে অথবা পার্কে ব্যায়াম করা যেতে পারে।

অ্যাজমা বা হৃদ্রোগের মতো সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের দূষিত পরিবেশে বাইরে ব্যায়াম করার সময় আরও বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গবেষকরা আরও বলেছেন, ব্যক্তিগত পর্যায়ে কিছু পদক্ষেপ নিলেও দূষণের সংস্পর্শ সম্পূর্ণভাবে কমানো সম্ভব নয়। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারিবিদ হানিন খ্রেইসের মতে, সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা আসবে দূষণের উৎস থেকেই নির্গমন কমানোর মাধ্যমে।

 

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha