স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ২৯ জুন :আগরতলা মাস্টার পাড়া, নেতাজি চৌমুহনী, সেন্ট্রাল রোড এবং প্রতাপগড় সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় জন্ডিসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত ২ সপ্তাহের অধিক সময় ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে মানুষের মধ্যে জন্ডিস ছড়িয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে একাধিকবার খবর প্রকাশিত হয়েছে। রবিবার সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলি পরিদর্শনে যান করছেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলাশাসক ডঃ বিশাল কুমার সহ প্রশাসনিক একটি প্রতিনিধি দল। তারা সংশ্লিষ্ট এলাকা গুলি পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের শারীরিক অবস্থা খোঁজখবর নেন।
জানতে পারেন কেউ কেউ জন্ডিসের কারণে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, তবে অধিকাংশ মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পরে প্রতাপগড়ের গীতা ভবনে গিয়ে এক জরুরী বৈঠক করেন জেলা শাসক। বৈঠকে পূর্ত দফতর, ডিডাব্লিউএস, স্বাস্থ্য দপ্তর এবং আগরতলা পুর নিগম সহ বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক সহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন। তারপর সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলাশাসক ডঃ বিশাল কুমার জানান, গত কয়েকদিন ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকা গুলির মধ্যে জন্ডিস আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ থেকে ৫২ জনের মধ্যে জন্ডিসের ইঙ্গিত রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজনের জন্ডিস সনাক্ত হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ধারণা ছিল খাওয়ার জল থেকে এলাকায় জন্ডিস আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। তারপর প্রশাসনিক কর্মীরা সাথে সাথেই জলের নমুনা সংগ্রহ করে এজিএমসি -তে পাঠায়। কিন্তু দুটি রিপোর্টেই নেগেটিভ আসে। তারপরে দ্বিতীয়বার পাইপ লাইনের জল, জলের ট্যাংকের পানীয় জল এবং যারা আক্রান্ত হয়েছে তাদের ঘর থেকে জল সংগ্রহ করে এজিএমসি তে পরীক্ষা করার জন্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনিক কর্মীদের। একই সঙ্গে বলা হয়েছে যেহেতু স্মার্ট সিটির কাজ আগরতলা শহরের মধ্যে চলছে তাই যদি মাটির নিচে কোন জলের পাইপ ফেটে যায় তাহলে সাথে সাথে এটা যেন পাল্টে দেওয়া হয়। জেলাশাসক আরো জানিয়েছেন মাস্টার পাড়া এলাকায় যেহেতু জন্ডিস আক্রান্তের সংখ্যা বেশি তাই এলাকাবাসীকে বলা হয়েছে তারা যাতে আগামী ১৫ দিন জল ফুটিয়ে খায়। একই সাথে জেলা শাসকের সাথে পরিদর্শনে থাকা পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছেন গোটা পরিস্থিতির দিকে তিনি নজর রাখছেন। এলাকায় পর্যাপ্ত ভাবে স্বাস্থ্য শিবিরের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উদ্বেগের কোন কারণ নেই।

