স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ৩০ অক্টোবর : শ্বশুরবাড়িতে পরিকল্পিত ভাবে জামাতা খুন হয়েছে বলে অভিযোগ। জানা গেছে আমতলী থানার অন্তর্গত ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বাগমারা কলোনী এলাকার ঝুটন সরকার গত সাত আট বছর আগে একই এলাকার অজয় সরকারের মেয়ে মাম্পি সরকারকে সামাজিকভাবে বিয়ে করেছিল। বিয়ের পর তাদের ঘরে এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়।
কিন্তু প্রায়ই তাদের পরিবারে কলহ চলতো। গত তিন বছর আগে মাম্পি সরকার তার বাবার বাড়িতে চলে যায়। অন্যদিকে ঝুটন সরকার তার একমাত্র পুত্র সন্তানকে দেখতে প্রায়ই শ্বশুরবাড়িতে যেত। এরই মধ্যে গত রবিবার গভীর রাতে ঝুটন সরকারের শ্যালিকার জামাই মনির দেবনাথ ঝুটনকে তার শ্বশুরবাড়িতে ডেকে তার স্ত্রী মাম্পি সরকার এবং শাশুড়ি শেফালী সরকারের ইশারায় মনির দেবনাথ সহ তার বন্ধু বেধরকভাবে মারধর করে মাটিতে ফেলে রাখে। রাত দেড়টার নাগাদ ঝুটনের ভাই শশুর বাড়ির লোকজনদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ছুটে গিয়ে দেখে ঝুটন রান্নাঘরে পরে আছে। সে সময় পুলিশও ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তাকে উদ্ধার করে হাঁপানিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়, সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে জিবি হাসপাতালে রেফার করা হয়।
এদিকে ঘটনার দিনই অভিযুক্ত মনির দেবনাথকে আমতলী থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে সে জেল হেফাজতে রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে বুধবার ভোর পাঁচটা নাগাদ জিবি হাসপাতালে ঝুটন সরকার মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ঝুটন সরকারের মৃত্যুর খবর পেয়ে আমতলী থানার পুলিশ বুধবার দুপুরে একটি খুনের মামলা নথিভুক্ত করে। বুধবার দুপুরে ঝুটন সরকারের মৃতদেহ তার নিজ বাড়িতে নিয়ে তার পরিবারের লোকজন সহ আত্মীয়-স্বজনেরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। এদিকে বুধবার বিকেলে ঝুটন সরকারের স্ত্রী মাম্পি সরকার এবং তার শশুর অজয় সরকার আমতলী থানায় আসলে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় গোটা এলাকার মানুষ অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি করছে।