Thursday, February 5, 2026
বাড়িরাজ্যসুরজিৎ দত্তের মত এমন বিধায়ক আগে কখনো দেখিনি : মুখ্যমন্ত্রী

সুরজিৎ দত্তের মত এমন বিধায়ক আগে কখনো দেখিনি : মুখ্যমন্ত্রী

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২৮ ডিসেম্বর :  প্রয়াত বিধায়ক সুরজিৎ দত্ত কে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানালো মহাকরণ এবং বিধানসভা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে সকলেই একেবারে শোকস্তব্ধ। শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করলে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু।

 বৃহস্পতিবার দুপুর বারোটার পর প্রয়াত বিধায়ক সুরজিৎ দত্তের কফিনবন্দী দেহ আসে আগরতলা এম বি বি বিমানবন্দরে। সেখান থেকে শবদেহ নিয়ে আসা হয় মহাকরণ এবং বিধানসভায়। শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করলেন মন্ত্রিসভার সমস্ত সদস্য, সদস্যা এবং বিধানসভার জনপ্রতিনিধিরা। তবে দেখা যায়নি কংগ্রেস বিধায়ক বিরোধী সিনহা এবং সিপিআইএমের বিধায়ক জিতেন্দ্র চৌধুরীকে।

শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাক্তার মানিক সাহা জানিয়েছেন প্রয়াত বিধায়ক সুরজিৎ দত্ত ছিলেন প্রকৃত অর্থে একজন জননেতা। প্রয়াত এই জনপ্রিয় বিধায়ক সকলের কাছে পরিচিত সুনু দা হিসেবেই। তিনি সাতবার রামনগর বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন। সাধারণ মানুষের সমস্যা নিরসনের জন্য তিনি যে কোনো মুহূর্তেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন। যা রাজ্যের মানুষের কাছে তাকে আরও বেশি জনপ্রিয় করে তোলে। প্রয়াত এই জনপ্রিয় বিধায়ক সুরজিৎ দত্তের বাড়ির সামনে কোনো গেট ছিল না। সব সময় ছিল মানুষের আনাগোনা।

সাধারণ মানুষ যে কোনো বিপদের সম্মুখীন হলে ছুটে যেতেন তাদের এই জনপ্রিয় বিধায়কের কাছে। এমন জনদরদী জননেতা আগে তিনি কখনো দেখেননি। কংগ্রেসের জোট সরকারের আমলে তিনি মন্ত্রী ছিলেন। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকারের দ্বিতীয় বারের বিধায়ক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভুগছিলেন কিডনির সমস্যায়। মঙ্গলবার আইএলএস হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে শেষ বারের মতো কথা হয়েছিল প্রয়াত এই জনপ্রিয় বিধায়ক সুরজিৎ দত্তের। এই সময়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী কে বলছিলেন ‘আমি এত তাড়াতাড়ি তোমাদের ছেড়ে চলে যাব না’। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাক্তার মানিক সাহা বিষয় একজন চিকিৎসক।

 প্রয়াত জনপ্রিয় বিধায়ক সুরজিৎ দত্তের মুখ থেকে এই কথা শোনার পর মুখ্যমন্ত্রী তথা চিকিৎসক মানিক সাহার মধ্যে কিছুটা সন্দেহ দানা বেধে ছিল। তখনই মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাক্তার মানিক সাহা প্রয়াত এই জনপ্রিয় বিধায়কের পরিবারের লোকজনদের সঙ্গে কথা বলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। বুধবার এয়ার লিফটিং এর সাহায্যে পাঠানো হয় কলকাতায়। কিন্তু রাত প্রায় এগারোটা নাগাদ খবর আসে জনপ্রিয় বিধায়ক সুরজিৎ দত্ত আর নেই। বিধায়ক সুরজিত দত্তের এই প্রয়াণ একটা অপূরণীয় ক্ষতি। সুনুদা মানেই সুনুদা। রামনগর বিধানসভা কেন্দ্রে সুরজিৎ দত্তের এই ঘাটতি কেউ মেটাতে পারবেন তা চিন্তা করা এক কথায় অসম্ভব। প্রয়াত এই জনপ্রিয় বিধায়কের পরিবারের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের ও একটা সখ্যতা রয়েছে সেই শৈশব কাল থেকে। আর সুরজিৎ দত্তের মৃত্যুর খবর পাওয়াটা মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাক্তার মানিক সাহার জন্য ছিল এক প্রকার হৃদয়বিদারক। প্রয়াত বিধায়ক সুরজিৎ দত্ত ছিলেন সম্পূর্ণ পৃথক ধরনের। তিনি স্বাভাবিকের চেয়ে ছিলেন অনেক উঁচু মানের। এ ধরনের জননেতার অভাব পূরণ করা খুব কষ্টকর। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাক্তার মানিক সাহা, প্রয়াত এই জনপ্রিয় বিধায়ক সুরজিৎ দত্তের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

 রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী রতন লাল নাথ জানিয়েছেন রামনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এখন পর্যন্ত তিনি আট বার প্রতিদ্বন্দিতা করেছেন। সাতবার তিনি জয়লাভ করেছেন।

মাত্র একবার হেরেছেন অল্প কিছু সংখ্যক ভোটে। একটা এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ালে জনপ্রিয়তা কতটুকু অর্জন করা যায় তা প্রয়াত বিধায়ক সুরজিৎ দত্তকে দেখলে বোঝা যায়। প্রয়াত এই জনপ্রিয় বিধায়ক সুরজিৎ দত্তের শোক জ্ঞাপন করে পরিবার-পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জানান  মন্ত্রী রতন লাল নাথ। তিনি বলেন একজন জনপ্রতিনিধি কি, এবং জনপ্রতিনিধিকে কেমন হওয়া উচিত তার জ্বলজ্যন্ত উদাহরণ ছিলেন সুরজিৎ দত্ত। প্রয়াত এই জনপ্রিয় বিধায়ক রামনগর বাসীর জন্য সুরজিৎ দত্ত থেকে হয়ে যান সুনু দত্ত। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি সকলকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। রক্তের জন্য কিংবা শ্রাদ্ধের জন্য কাউকে তিনি কখনো শূন্য হাতে ফেরত পাঠাননি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসুস্থতায় ভুগছিলেন। কিন্তু তিনি যে অসুস্থ তা তিনি কাউকে বুঝতে দেননি। প্রয়াত এই জনপ্রিয় বিধায়ক সুরজিৎ দত্তের সঙ্গে রামনগরের মানুষের সম্পর্ক ছিল একেবারে শিকড়ের মত।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য