বাড়িবিশ্ব সংবাদজাপানের প্রথম বেসরকারি মহাকাশযান চাঁদে অবতরণে ব্যর্থ

জাপানের প্রথম বেসরকারি মহাকাশযান চাঁদে অবতরণে ব্যর্থ

স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক,,২৬ এপ্রিল: স্বপ্ন ভাঙল জাপানের। দেশটির বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের পাঠানো মনুষ্যবিহীন মহাকাশযান চাঁদে অবতরণে ব্যর্থ হয়েছে।মহাকাশযানটি মঙ্গলবার রাতেই চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছিল। জাপানের এই ল্যান্ডারের নাম ছিল হাকুতো–আর এম১।ল্যান্ডারটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে এটি চাঁদের পৃষ্ঠে ধাক্কা খেয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। কী ঘটেছে তা জানতে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন প্রকৌশলীরা।জাপানি কোম্পানি আইস্পেসের তৈরি হাকুতো–আর এম১ ল্যান্ডারে ছিল টেনিস বল আকৃতির একটি রোবট এবং অনুসন্ধানী রোভার। আইস্পেসের আশা ছিল ল্যান্ডারটি চাঁদে অবতরণ করে সেখানে এই রোভার মোতায়েন করতে সফল হবে।কিন্তু মিশনটি ধাক্কা খেল। আইস্পেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাকেশি হাকামাদা বলেন, “আমরা ল্যান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেছি। ফলে চঁদের পৃষ্ঠে এটির অবতরণ মিশন আমরা সম্পন্ন করতে পারিনি বলেই ধারণা করছি।”জাপানের মহাকাশযানটি গত বছর ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেপ ক্যানাভেরাল থেকে স্পেসএক্সের তৈরি ফ্যালকন–৯ রকেটে করে পাঠানো হয়েছিল। গন্তব্যে পৌঁছতে এটির সময় লেগেছে পাঁচ মাস।মহাকাশযানটিতে থাকা ল্যান্ডারের উচ্চতা ছিল ২ মিটার, ওজন ৩৪০ কেজি। এর আগে চাঁদে পাঠানো মানসম্মত মহাকাশযানগুলোর তুলনায় এটি ছিল অনেক ছোট।

প্রায় এক মাস আগে চাঁদের কক্ষে পৌঁছেছিল যানটি। মঙ্গলবার চন্দ্র পৃষ্ঠের উপরে ১০০ কিলোমিটার উচ্চতা থেকে ঘন্টায় প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার বেগে চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের কথা ছিল হাকুতো-আর এর।আর চাঁদের উত্তর গোলার্ধে অবতরণের পরই সেখানকার মাটি, ভূপ্রকৃতি এবং বায়ুমন্ডল পরীক্ষার জন্য দুটি পেলোড বা স্যাটেলাইট মোতায়েনেরও কথা ছিল।এখন পর্যন্ত চাঁদের পৃষ্ঠে সফলভাবে কোনো মহাকাশযান অবতরণ করাতে সক্ষম হয়েছে মাত্র তিনটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন। তবে এই সব মিশনই ছিল সরকার পরিচালিত।২০১৯ সালে ইসরায়েল প্রথম বেসরকারি কোম্পানি থেকে চাঁদে অবতরণের চেষ্টা চালায়। সেই অভিযানে ইসরায়েলের মহাকাশযান চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছতে পারলেও অবতরণের সময় সেটি হারিয়ে যায়।জাপানের এই চন্দ্রাভিযানের উদ্দেশ্য ছিল চাঁদে একের পর বাণিজ্যিক অভিযান শুরুর পথ তৈরি করা। এর মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে অন্য বেসরকারি কোম্পানি, এমনকী ছোট দেশগুলোর চন্দ্রাভিযানের জন্যও আরও সুযোগ সৃষ্টির পথ খুলত।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য