Friday, February 6, 2026
বাড়িরাজ্যচাকরির দাবি জানাতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার ৪৭, নিন্দা সিপিআইএম এবং কংগ্রেসের

চাকরির দাবি জানাতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার ৪৭, নিন্দা সিপিআইএম এবং কংগ্রেসের

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ১২ ডিসেম্বর : নিয়োগের দাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও করে পুলিশের লাঠির ঘায়ে আহত এস টি জি টি উত্তীর্ণ চাকুরি প্রত্যাশী ৪৭ জন যুবক-যুবতীরা। কিন্তু দুমাস পর রাজ্যের গণতন্ত্র প্রিয় মানুষ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবে। আর এই সময়ে সরকারের দাম্ভিকতা কমার কোন লক্ষণ নেই। সোমবার রাস্তায় ফেলে চাকরি প্রত্যাশী যুবক-যুবতীদের উপর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস করে দেখিয়েছে রাজ্যের আইনমন্ত্রী মহাশয়।

এবং তিনি রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন সরকার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে বিশ্বাসী। তাই চাকুরী প্রত্যাশী যুবক-যুবতীদের এবার রাস্তায় ফেলে রক্তাক্ত করতে একবারের জন্য ভাবলেন না তথাকথিত আইনমন্ত্রী। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে এস টি জি টি উত্তীর্ণ সকলকে এক সঙ্গে নিয়োগ করার দাবিতে এদিন ফের শিক্ষামন্ত্রী বাসভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখায় পরীক্ষার্থীরা। একটা সময় তারা রাস্তার উপর বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। বন্ধ হয়ে পড়ে যায় যান চলাচল। তাদের বক্তব্য একই দাবিতে বিগত তিন মাস যাবত তারা অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ির দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাদের উপেক্ষিত করা হচ্ছে। করা হচ্ছে না সুরাহা। প্রতিটি স্কুলে নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষক স্বল্পতা আছে। অথচ এস টি জি টি -তে নিয়োগ করা হচ্ছে না। দাবি পূরন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। তারপর বিক্ষোভের জেরে নিজ বাসভবনে আটকে পড়েন শিক্ষামন্ত্রী। পরে মন্ত্রীর নির্দেশে রাস্তায় বসে থাকা বিক্ষোভ প্রদর্শনকারীদের পুলিশ সরানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরো বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। তখন পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করার সিদ্ধান্ত নেয়। আর এই সময়ের মধ্যে মন্ত্রী মশাই বাসভবন থেকে বের হয়ে আসলে বিক্ষোভে গতি আনে যুবক-যুবতীরা। তখন শিক্ষামন্ত্রী তথা আইনমন্ত্রী রতন লাল নাথ পুলিশকে ধমকিয়ে চমকিয়ে বলেন তারা ডেপুটেশনের জন্য ভেতরে গিয়ে তেমন কিছুই বলতে পারে না, কেন তাদের পাঠানো হয়! মন্ত্রীর মেজাজ হারানো দেখে পুলিশ বাবুরা এদের ঘাবড়িয়ে যায়।

 শেষ পর্যন্ত তাদের রাস্তা থেকে তুলতে বেধড়কভাবে লাঠি চার্জ শুরু করে। রাস্তার পাশে পড়ে গুরুতর আহত হয় বহু যুবক-যুবতী। রেহাই পায়নি গর্ভবতী মহিলা ও কিডনি রোগে আক্রান্ত যুবক পর্যন্ত। গর্ভবতী মহিলাকে সিআরপিএফ দিয়ে পেটানো হয়েছে বলে অভিযোগ। অনেক যুবক যুবতীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ আহতদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। পাঠানো হয় হাসপাতালে। চাকরি প্রত্যাশী এক যুবক জানান, মন্ত্রী মশাই বলছেন বর্তমান সরকার পয়সা ওয়ালা সরকার। তাহলে কেন বেকার যুবক-যুবতীদের চাকুরীর জন্য রাস্তায় বসে থাকতে হচ্ছে। নিয়োগ করার কোন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। সুতরাং মন্ত্রীমশাই কথার সাথে বাস্তবের অমিল রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেন তারা। এবং তারা আরও বলেন এভাবে কি রাজ্যে বর্তমান সরকার গুণগত শিক্ষা আনতে পারবে ? অবিলম্বে যদি নিয়োগের ব্যবস্থা করা না হয়, তাহলে তারা পরিবার নিয়ে রাস্তায় বসবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

পুলিশের লাঠি ঘায়ে গুরুতর আহত হয়েছে ৪৭ জন। এর মধ্যে তিনজনের হাত ভেঙে গেছে এবং দুজনের পা ভেঙে গেছে বলে জানায় চাকুরি প্রত্যাশী যুবক-যুবতীরা। এমনকি পুলিশ অমানবিকভাবে বহু আহত যুবক-যুবতীদের হাসপাতালে না এনে গ্রেফতার করে এ ডি নগর পুলিশ কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো গর্ভবতী মহিলাকে রাস্তায় সিআরপিএফ দিয়ে পেটানো হয়েছে। এই চিত্র দেখে হতবাক পথচারীরা। কি হচ্ছে এগুলো ! মন্ত্রীর মত কি রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন এবং আধা সামরিক বাহিনী অমানবিক হয়ে গেছে। এমনটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে স্থানীয়দের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত পথচারীরা এসে আহতদের উদ্ধারের কাজে হাত লাগায়।

এদিকে খবর পেয়ে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী হাসপাতালে গিয়ে আহতদের শারীরিক অবস্থা খোঁজখবর নেন। কথা বলেন চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে। তিনি বলেন সেখানে জেলা শাসক এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারত। পুলিশ দিয়ে অমানবিকভাবে তাদের উপর আক্রমণ নামিয়ে আনার  প্রয়োজন ছিল না। তাই এই সরকারকে বর্বর, অমানবিক এবং অমানুষ ছাড়া আর কিছু বলার নেই। দীর্ঘ পাঁচ বছর আগে রাজ্যের যুবক-যুবতীদের ঠকিয়ে সরকারে এসেছে। এখন তারা সরকারে এসে পাঁচ বছর ধরে যুবক যুবতীদের এভাবে হয়রানি করছে। এটা রাজ্যের মানুষ কিছুতেই সহ্য করবে না বলে জানান তিনি। পাশাপাশি আহতদের সাথে কথা বলে তাদের পাশে রয়েছে বলে জানান। এবং যারা রাজ্যের যুবক-যুবতীদের পেটে লাথি মারে তাদের গণতান্ত্রিকভাবে সরকার থেকে উৎখাত করতে হবে বলেও জানান তিনি। এই সরকার থাকলে রাজ্যের যুবক যুবতীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। নেশা বিস্তার করে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে তারা রাজ্য থেকে একসময় চলে যাবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন জিতেন্দ্র চৌধুরী চৌধুরী। যেসব পুলিশ অফিসার এ ধরনের ঘটনা সংঘটিত করার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যাতে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তারও দাবি জানান শ্রী চৌধুরী।

খবর পেয়ে ছুটে যান কংগ্রেস নেতা আশীষ কুমার সাহাও। তিনি এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন এটি বর্বরচিত রাষ্ট্রবাদী আক্রমণ। এবং এই ঘৃন্ন রাজনীতি এবং প্রতারণার তীব্র নিন্দা জানায় কংগ্রেস। এভাবে পুলিশ লেলিয়ে বেকারদের উপর আক্রমণ নামে আনা শুধু হতাশ নয় বেকারদের জীবন বিপন্ন। আগামী দিনে চাকরি প্রত্যাশীদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন আশীষ কুমার সাহা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য