স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৬ জুলাই : জগন্নাথ গেলেন মাসির বাড়ি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আগরতলা শহরে ভক্তদের সমাগম। দুপুরের নাগাদ ভক্তদের আবেগ যেন শহরকে আরো বেশি উৎসাহিত করে তুললো। জগন্নাথ বন্দনার আবহ যেন ছড়িয়ে পড়ে। বেশ জাঁকজমক পূর্ণভাবে পূণ্য রথযাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত হয় এদিন। ব্যতিক্রম ছিল না আগরতলা স্থিত ইসকন মন্দিরের উদ্যোগে আয়োজিত রথযাত্রা উৎসবও। এই দিনটিতে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা মন্দির থেকে বেরিয়ে মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
সেদিন মন্দির কর্তৃক আয়োজিত ১২ তম ইসকন রথযাত্রা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু, মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা, সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, প্রদেশ বিজেপি-র সভাপতি অভিষেক দেব রায় সহ অন্যান্যরা। তাদের মঙ্গল আরতির মধ্য দিয়ে রথের সূচনা হয়। এদিন ইসকন মন্দিরের রথ শুরু হয় রাজধানীর পূর্বাশা প্রাঙ্গন থেকে। অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল বক্তব্য রেখে বলেন, হিন্দু ধর্মের উপর ধীরে ধীরে বিশ্ববাসীর আস্থা এবং ভালোবাসা বাড়ছে। এবং আগামী দিন আরো বাড়বে বলে আশা ব্যক্ত করেন রাজ্যপাল। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য রেখে বলেন, আজ বিশ্বের বহু দেশে এই রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রথ যাত্রার মাহাত্ম্য সকলের মধ্যে পৌঁছে গেছে। এই রথযাত্রার মূল উদ্দেশ্য হলো বৈষম্যহীনতা।
এই রথযাত্রা সকলের মধ্যে থেকে বৈষম্যহীনতা দূর করতে সাহায্য করবে এবং সমাজের মধ্যে সাম্যের বার্তা বিস্তার লাভ করবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আগে বহু সরকার ছিল। এর মধ্যে এক সরকার দীর্ঘদিন রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত থাকলেও তারা ভগবানকে বিশ্বাস করত না। নাস্তিকের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিল রাজ্যে। এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আজ আস্তিকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ মাঝে মধ্যে রথযাত্রায় বাধা আসে। যারা বাধা দেয় তাদের এই ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বের হয়ে আসতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে আগরতলার জগন্নাথ জিও মন্দিরের রথযাত্রা উৎসবকে কেন্দ্র করে আছড়ে পড়লো ভক্তদের ঢল। কিন্তু এক আবেগ মুহূর্ত যেন সাক্ষী হতে পেরে কেউ কেউ নিজেকে সামলে রাখতে পারেনি। রথের দড়ি টেনে রথের সাথে রওনা হয়। এই মুহূর্তে যেন ভক্তরা আর নিজেকে বৃষ্টির জন্য রুখতে পারেনি। মুখে গান, সাথে নাচ – এক অভূতপূর্ব মুহূর্তের সাক্ষী হল আগরতলা। যা দেখে হয়তো বোঝা যায়, মোবাইল যুগে মানুষ নিজেকে পাল্টে ফেললেও, ধর্মীয় ভাবাবেগের সাথে জড়িয়ে রয়েছে তাদের আবেগ, বিশ্বাস এবং ভালোবাসা।

