বাড়িরাজ্যডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ-২০২৬ এ উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় ডোনারমন্ত্রী: মুখ্যমন্ত্রী

ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ-২০২৬ এ উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় ডোনারমন্ত্রী: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা: আগামী ৯ জুলাই থেকে হাঁপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গনে শুরু হতে যাচ্ছে দু’দিনব্যাপী ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ-২০২৬। এই উপলক্ষে আজ মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহার সভাপতিত্বে মেলা প্রাঙ্গণস্থিত অডিটোরিয়ামে এক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

                     সভায় আলোচনাকালে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের যুব সমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি মাথাপিছু গড় আয় ও জিএসডিপি বৃদ্ধিতে রাজ্যে দেশী, বিদেশী বিনিয়োগ একান্ত প্রয়োজনীয়। সেই দিক দিয়ে এই ধরনের বিজনেস কনক্লেভের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। রাজ্যে প্রথমবারের মত এত বৃহৎ আকারে বিজনেস কনক্লেভের আয়োজন করা হচ্ছে, যা একথায় অভূতপূর্ব। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ বদলে যাচ্ছে। তিনি জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে কর্মচারীদের মধ্যেও দেশের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা সৃষ্টি করেছেন।

                        মুখ্যমন্ত্রী আলোচনায় আরও বলেন, জি-২০, নর্থইস্ট কাউন্সিলের প্ল্যানারী বৈঠক আয়োজনে রাজ্যের সর্বস্তরের কর্মচারীগণ একজোট হয়ে টিম ত্রিপুরা হিসেবে কাজ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন এই অনুষ্ঠানও সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে সফলভাবে আয়োজিত হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবারের বিজনেস কনক্লেভে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। এই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি কাজ করছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, তথ্য ও প্রযুক্তি, পরিবহন, পর্যটন ক্ষেত্রগুলির বিভিন্ন প্রকল্পে সর্বাপেক্ষা বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, গতবছরের বিজনেস কনক্লেভে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের মউ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এরমধ্যে ৮ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ সম্পর্কিত কাজ মাঠ পর্যায়ে শুরু হয়ে গেছে। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে এই কর্মসূচিকে ফলপ্রসূ করে তুলতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের পরামর্শও প্রদান করেন।

               উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা, কেন্দ্রীয় ডোনারমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া ছাড়াও রাজ্য মন্ত্রীসভার সদস্য সদস্যাগণ উপস্থিত থাকবেন। এই উপলক্ষ্যে হাঁপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গনে থিমভিত্তিক বিভিন্ন দপ্তরের এবং কেন্দ্রীয় পি এস ইউ-এর ২০টির বেশী প্রদর্শনী স্টল থাকবে। দেশ ও বিদেশের ৫০০ জন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, হাইকমিশন, কনসালটেন্টদের আমন্ত্রন জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ, ফিলিপিন্স, কাজাকিস্থান, মালদ্বীপ, নেপাল, উজবেকিস্থানের মতো দেশগুলির প্রতিনিধিগণ কনক্লেভে আসার কথা সুনিশ্চিত করেছেন। তাছাড়া রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার প্রতিনিধিগণ এবিষয়ে সদর্থক রয়েছেন। ২ দিনের এই কনক্লেভে স্বাস্থ্য, পর্যটন, শিক্ষা, লজিস্টিকস্, তথ্য ও প্রযুক্তি, পুনর্নবীকরণ শক্তি, রিয়েল এস্টেট, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের পাশাপাশি চা, রাবার ও আগর ভিত্তিক শিল্প বিষয়ে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দেওয়া হবে।

                  ২ দিনের এই কনক্লেভে বিভিন্ন দপ্তরের প্রদর্শনী ছাড়াও, মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীদের সঙ্গে আগত প্রতিনিধিদের সরাসরি মিটিং, রাউন্ড টেবিল ডিনার, সেক্টোরাল প্রেজেন্টেশান, বিজনেস রিফর্মস ও ইকোনমিক রিফর্মস নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভা, মউ স্বাক্ষর কর্মসূচি থাকবে। এই কনক্লেভের ইন্ডাস্ট্রি পার্টনার হল ফিকি (FICCI) এবং সহায়তায় রয়েছে ইনভেস্ট ইন্ডিয়া।

                 পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক মীনারানী সরকার, মুখ্যসচিব জিতেন্দ্র কুমার সিনহা, রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, প্রধান সচিব শান্তনু সহ বিভিন্ন দপ্তরের সচিব, অধিকর্তা ও সকলস্তরের আধিকারিকগণ। কনক্লেভ উপলক্ষে যে সমস্ত দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রদর্শনী স্টল খোলা হবে তাদের সচিবগণ নিজ নিজ দপ্তর সম্পর্কিত বিনিয়োগের পরিমান ও সম্ভাবনা, মউ স্বাক্ষর ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। সভার শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী নির্মিয়মান বিভিন্ন প্রদর্শনী স্টল ঘুরে দেখেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য