কিয়েভ, ৫ জুলাই (হি.স.) : ইউক্রেন ফের রাশিয়ার অভ্যন্তরে বড়সড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। শনিবার রাতে সেন্ট পিটার্সবার্গের কাছে একটি তেল শোধনাগার এবং একাধিক সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে শতাধিক দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালানো হয়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, এই হামলায় প্রায় ৫০০টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও সমাজমাধ্যমে হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে সেন্ট পিটার্সবার্গ বন্দরের একটি তেল সংরক্ষণ কেন্দ্র থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।
জেলেনস্কি জানান, সেন্ট পিটার্সবার্গ বন্দরের তেল পরিকাঠামোর পাশাপাশি ক্রনস্টাড নৌঘাঁটির আশপাশের সামরিক লক্ষ্যবস্তুর উপর সফল হামলা চালানো হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, দীর্ঘপাল্লার প্রায় ৫০০টি ড্রোন এই অভিযানে ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে, মস্কোর মেয়রের দাবি, রাজধানী মস্কোকেও লক্ষ্য করে প্রায় ২০০টি ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। ইউক্রেন গত কয়েক মাস ধরে রাশিয়ার অভ্যন্তরে তেল শোধনাগার, পরিকাঠামো এবং প্রতিরক্ষা শিল্প সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলিতে ধারাবাহিকভাবে ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলায় দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহারের ফলে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উপরও চাপ বাড়ছে।
জানা গেছে , ইউক্রেনের হামলার জেরে রাশিয়ার একাধিক এলাকায় জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে। বহু জায়গায় পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন পড়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রেও রাশিয়ার উপর চাপ বাড়ছে। ইউক্রেনের লক্ষ্য মূলত রাশিয়ার রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত করা এবং অধিকৃত ক্রিমিয়ায় সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত করা। ক্রিমিয়ায় জ্বালানির সংকটের কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ইউক্রেনের হামলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জেরে সেখানে কার্ফুও জারি হয়েছে।
এদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেনাবাহিনীর পোশাক পরে একটি সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শন করেছেন। একইসঙ্গে রুশ সেনার দাবি, তারা ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা কেন্দ্র কোস্তিয়ানতিনিভকা শহরের দখল নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দাবি সত্য হলে চলতি বছরে যুদ্ধক্ষেত্রে এটি রাশিয়ার অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
তবে পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও রোচান কনসাল্টিং-এর পরিচালক কনরাড মুজিকার মতে, রাশিয়ার অগ্রগতি এখনও খুব ধীর। স্বাধীন পর্যবেক্ষক এবং পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই যুদ্ধে রুশ বাহিনীকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।

