স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৪ জুলাই : জিবি এবং আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ নিয়ে সরকার এক ইঞ্চিও পিছু পা হবে না। এটাই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। শনিবার স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে জাতীয় চিকিৎসক দিবস উদযাপন করা হয় আগরতলা প্রজ্ঞা ভবনে। উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা, স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্যে, স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা দেবশ্রী দেববর্মা সহ অন্যান্যরা। মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য রেখে বলেন, জিবি এবং আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ নিয়ে একটা হৈচৈ শুরু হয়েছে রাজ্যে।
কিন্তু সব জায়গায় একটা নিয়ম-শৃংখলার প্রয়োজন। সরকার সুপার স্পেশালিটি পরিষেবা চালু করেছে জেলা হাসপাতালে। অথচ কর্তব্যরত চিকিৎসকরা কখন আসছেন কখন যাচ্ছেন তার নিয়ম-শৃঙ্খলা নেই। তাই বর্তমান সময় দাঁড়িয়ে এই সিদ্ধান্ত সময় উপযোগী। শুধুমাত্র ত্রিপুরা সরকার জিবি এবং এজিএমসি-র চিকিৎসকদের জন্য এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। বিহার, হিমাচল প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, পাঞ্জাব এবং দিল্লি পুরোপুরি ভাবে বন্ধ পাইভেট প্র্যাকটিস। তাই ত্রিপুরা রাজ্য প্রথমে আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজ দিয়ে শুরু করা হয়েছে, ধীরে ধীরে বাকি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসকদের জন্য প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, এতদিন যেভাবে চলে আসছে বলে এখনও এভাবে চলতে হবে এমন কোন কথা নয়। যারা রাজ্যে বেসরকারি হাসপাতাল খুলেছে তাদের ডেকে বলা হয়েছে, আপনারা যখন হাসপাতাল খুলেছেন তখন কি সরকারকে লিখিত দিয়েছেন যে সরকারি চিকিৎসকদের আপনারা ব্যবহার করবেন? আপনারা অন্য রাজ্য থেকে চিকিৎসক নিজেরা নিয়ে আসুন।
দুই নৌকায় পা দিয়ে কোন কিছুই সঠিকভাবে হয় না। সুতরাং, সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ হলে সাধারণ মানুষের সুবিধা হবে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে সরকারের যেন কোনো অবস্থাতে বিভেদ না হয়। সরকার বিভেদ চায় না। আলোচনা চলছে এবং আলোচনা আরো হবে। মুখ্যমন্ত্রী চিকিৎসকদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে বলেন, চিকিৎসকদের নিয়মিত পদোন্নতি যেন হয় তার জন্য সরকার আন্তরিক। কিন্তু চিকিৎসকদের কোন অবস্থাতেই যেন মন খারাপ না হয়। আগামী দিন আগরতলা গভমেন্ট মেডিকেল কলেজ যাতে সেন্টার অফ এক্সিলেন্ট হয় তার জন্য কাজ করছে সরকার। আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে চিকিৎসকদের পুরস্কৃত করা হয়।

