স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২ জুলাই : নেশার স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে ত্রিপুরা। রাষ্ট্রবাদীর দোহাই দিয়ে জড়িয়ে পড়ছে বহু বড় মাথা। জিরানিয়া নেশা কান্ডের ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যে উপরতলা থেকে নিচতলা পর্যন্ত ম্যানেজ করে আবারো বড়সড় নেশা পাচার চেষ্টা রাজ্যে। এইবার রেলে করে আগরতলা রেল স্টেশনে আমদানি করা হল বিপুল পরিমাণ নেশা জাতীয় কফ সিরাপ। বিশালাকার টিনের ড্রামের অভ্যন্তরে লুকিয়ে এই সকল নেশা জাতীয় কফ সিরাপ আমদানি করা হয়।
রেলের একটি পার্সেল ভ্যানে করে এই কফ সিরাপ ভর্তি ড্রাম গুলি আগরতলা রেল স্টেশনে আমদানি করা হয়। রেলের এই পার্সেল ভ্যানটি বিহারের কাটিহার থেকে আগরতলার জন্য বুকিং করা হয়েছিল। জানা যায় ২৫ জুন কাটিহার থেকে PW Bill No. 198284-এর মাধ্যমে সাধারণ পণ্য হিসেবে বুক করা রেলের পার্সেল ভ্যানটি ৩০ জুন রাত্রি ৮ টা ৫৫ মিনিটে আগরতলা রেলস্টেশনে পৌঁছায়। ঐদিন রাত্রি ১১ টা ৫৫ মিনিটে আনলোডিংয়ের জন্য আগরতলা রেল স্টেশনের ১৩ নাম্বার লাইনে রাখা হয়। ১ জুলাই ভোর ৩ টা নাগাদ ডিআরআই-এর আগরতলা আঞ্চলিক ইউনিট থেকে গোপন সংবাদ পৌছায় এই পার্সেল ভ্যানে সন্দেহ জনক নিষিদ্ধ সামগ্রী লুকিয়ে রাখা হতে পারে।
তারপর ডি.আর.আই, রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স এবং রেল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে যৌথ তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। তল্লাশি অভিযানে এই পার্সেল ভ্যানের অভ্যন্তর থেকে সাধারণ মালপত্রের পাশাপাশি ৮৯ টি টিনের ড্রাম পাওয়া যায়। তার মধ্যে ৮০ টি ড্রামে সাদা রঙের পাউডারের মধ্যে লুকিয়ে রাখা ছিল ৫৫ হাজার ৬২৬ বোতল কোডিন যুক্ত নেশা জাতীয় কফ সিরাপ। বাকি ৯টি ড্রামে শুধুমাত্র সাদা পাউডার পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার সকালে নেশা জাতীয় কফ সিরাপ উদ্ধার ও গণনার কাজ সম্পন্ন হয়। উদ্ধার হওয়া সমস্ত ৫৫,৬২৬ বোতল কফ সিরাপ ডিআরআই জব্দ করেছে। এই নেশা জাতীয় কফ সিরাপের চালান গ্রহণ করতে আসা খোয়াই জেলার কল্যাণপুর এলাকার বাসিন্দা বি.কে এন্টার প্রাইজের ম্যানেজার ৩৪ বছর বয়সী সুব্রত দেবকে ডি.আর.আই গ্রেপ্তার করেছে। জানা যায় ডি.আর.আই এনডিপিএস এক্টে মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্তে নেমেছে। এই নেশা জাতীয় কফ সিরাপ আমদানির সাথে আর কে কে যুক্ত রয়েছে তার তদন্তে নেমেছে ডি.আর.আই। তবে রেলে করে বিপুল পরিমাণ নেশা জাতীয় কফ সিরাপ আমদানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।

