স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৩০ জুন :খোয়াই জেলার প্রত্যন্ত কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নোনাছড়া এলাকায় অপরিশোধিত পানীয় জল ব্যবহারের জেরে ডায়রিয়ার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ জল পান করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
এর ফলেই একাধিক ব্যক্তি জলবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন ৬০ বছর বয়সী সন্তোষ কুমার মলসম, সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী আলদ্রিয়া মলসম, ১২ বছর বয়সী মিসন্তী মলসম, ৪৫ বছর বয়সী সান্ডামী মলসম এবং ২৬ বছর বয়সী পল্টু মলসম। এছাড়াও এলাকার আরও বেশ কয়েকজন ডায়রিয়ার উপসর্গে ভুগছেন বলে দাবি করেছেন বাসিন্দারা। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, অর্থাভাবে বহু পরিবার চিকিৎসা করাতে পারছেন না। অসুস্থ শরীর নিয়েই অনেকেই বাড়িতে পড়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। পাহাড়ি এলাকার দরিদ্র পরিবারগুলোর কাছে চিকিৎসার খরচ এখন বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধু পানীয় জলের সমস্যাই নয়, স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও চরম অবহেলার শিকার হচ্ছেন তাঁরা। জনসাধারণের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে থাকা নোনাছড়ার হেলথ সাব সেন্টারটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ভবন থাকলেও মিলছে না চিকিৎসা পরিষেবা। ফলে সামান্য অসুস্থতার জন্যও বহু দূরের পথ পাড়ি দিয়ে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, পাহাড়ি এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য তৈরি স্বাস্থ্যকেন্দ্র যদি তালাবন্ধ থাকে, তাহলে বিপদের সময় মানুষ কোথায় যাবে? নিরাপদ পানীয় জল ও প্রাথমিক চিকিৎসার মতো মৌলিক পরিষেবা থেকেও কেন বঞ্চিত হতে হবে প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের? স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি টিম পাঠিয়ে আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জন্য। পাশাপাশি এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ও.আর.এস বিতরণের ব্যবস্থা করা এবং বন্ধ থাকা হেলথ সাব সেন্টারটি দ্রুত চালু করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তবে এই ঘটনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত স্বাস্থ্য দপ্তর বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাহাড়ি এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে এমন উদাসীনতা কতদিন চলবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

