তেহরান, ২৯ জুন (হি.স.) : হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে গঠিত যৌথ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হল ওমানের রাজধানী মাস্কাটে। সোমবার সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ এই তথ্য জানিয়েছেন ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-বিদেশমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি।
মাস্কাটে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ওমানের বিদেশ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আবদুল আজিজ আল-হিনাই এবং দুই দেশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক প্রশাসন এবং উপকূলবর্তী দেশগুলির সার্বভৌম অধিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কাজেম গারিবাবাদি জানান, সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ইরান সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে জলপথের ভবিষ্যৎ প্রশাসন, সামুদ্রিক পরিষেবা পরিচালনা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে ওমানের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা হবে। এই প্রক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য উপকূলবর্তী দেশের সঙ্গেও প্রয়োজনীয় পরামর্শ করা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালীর কার্যকর ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনার জন্য ইরানের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তাঁর মতে, দীর্ঘমেয়াদি ও বিশ্বাসযোগ্য যে কোনও ব্যবস্থার ভিত্তি হওয়া উচিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক এবং উপকূলবর্তী দেশগুলির সার্বভৌম অধিকার।
এর একদিন আগে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালীতে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রধান দায়িত্ব ইরানের। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে তেহরানের পরিকল্পনায় হস্তক্ষেপ না করার এবং পূর্ববর্তী চুক্তিগুলিকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সাম্প্রতিক মাস্কাট সফরের পর এই যৌথ কমিটি গঠন করা হয়। বৈঠক শেষে দুই দেশ যৌথ বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালীকে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের জন্য নিরাপদ, উন্মুক্ত ও নির্বিঘ্ন রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে শিপিং, সামুদ্রিক পরিষেবা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়েও একমত হয়েছে।

