বাড়িরাজ্যকন্যা শিক্ষার প্রসার ও গুণগত শিক্ষা দানের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য...

কন্যা শিক্ষার প্রসার ও গুণগত শিক্ষা দানের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার: মুখ্যমন্ত্রী

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৫ জুন : শিক্ষা ক্ষেত্রে ত্রিপুরায় এখন ড্রপ আউটের সংখ্যা অনেক কম হয়েছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে মহিলাদের স্বশক্তিকরণ করা। কন্যা শিক্ষার প্রসার ও তাদের গুণগত মানের শিক্ষা দানের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

                            আজ আগরতলার শিশু বিহার স্কুলে নবম শ্রেণীর ছাত্রীদের মধ্যে বাই সাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

                             অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বারবার বলছেন যতক্ষণ ধরে মহিলাদের উন্নয়ন হবে না ততক্ষণ কোন অবস্থায় দেশ ও সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয়। জনসংখ্যার ৫০% হচ্ছেন মহিলা। এখন মহিলাদের সার্বিক উন্নয়ন, তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা সম্প্রসারনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মার্গ দর্শনে রাজ্য সরকারও সেই দিশায় কাজ করছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবছর প্রায় ৪১,৮০০ বাই সাইকেল সারা রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রীদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এজন্য মূল অনুষ্ঠানটি হচ্ছে আগরতলার শিশু বিহার স্কুলে। বাই সাইকেল দেওয়ার মূল লক্ষ্য হচ্ছে যাতে ছাত্রীরা যথাসময়ে স্কুলে আসতে পারে তার ব্যবস্থা করা। সেই সঙ্গে পড়াশুনার প্রতি মেয়েদের উৎসাহ আরো বৃদ্ধি করা। মেয়েদের শিক্ষাকে যাতে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া যায় তারজন্য এই কার্যক্রমের আয়োজন। বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে এই ধরণের কার্যক্রম আগামীদিনেও বজায় থাকবে।

                                মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, ত্রিপুরা রাজ্যে এখন ড্রপ আউটের সংখ্যা অনেক কম হয়েছে। মেয়েদের ক্ষেত্রে শিক্ষার দিক দিয়ে যখন সে গুণগত শিক্ষা পায় তখন তার সাথে সাথে পরিবারেরও উন্নয়ন হয়। এতে সমাজের উন্নয়নের পাশাপাশি রাজ্য ও দেশের উন্নয়ন হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে মেধার দিক দিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মেয়েরা এগিয়ে থাকে। সুযোগ পেলে তারা নিজেদেরকে মেলে ধরতে পারে। তাই প্রধানমন্ত্রীও নারীদের শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। নারীদের সুরক্ষা ও ক্ষমতায়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ত্রিপুরা রাজ্যে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতে মহিলা জনপ্রতিনিধির সংখ্যা ৫০% এর অধিক রয়েছে। আগরতলা পুর নিগম, অন্যান্য পুর ও নগর সংস্থাতেও মহিলা জনপ্রতিনিধির সংখ্যা অর্ধেকের মতো রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে মহিলাদের স্বশক্তিকরণ করা। এখন রাজ্যে মহিলারা বিভিন্ন ক্লাব ও সামাজিক সংস্থায় যুক্ত হচ্ছেন।

                               অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের ত্রিপুরা সরকার কন্যা শিক্ষার প্রসার ও তাদের গুণগত মানের শিক্ষা দানের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বিকশিত ত্রিপুরা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ছাত্রীরাও যাতে এগিয়ে আসে সেই আহ্বান রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু পড়াশুনা করলে হবে না, ড্রাগস নিয়েও সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে ছাত্রছাত্রীদের। এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা নিতে হবে শিক্ষক শিক্ষিকাদেরও। ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহারিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এই সম্পর্কে কিছুদিন আগে সমস্ত জেলাশাসকদের নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাদেরকেও আমরা নিয়মিত স্কুল পরিদর্শন করার কথা বলেছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই ড্রাগস সেবন থেকে রাজ্যকে মুক্ত রাখা।

                               অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, শিক্ষা দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে, রাজ্য সরকারের অধিকর্তা আনন্দ হরি জমাতিয়া (ককবরক ও অন্যান্য ভাষা), অধিকর্তা হর্সিতা বিশ্বাস (এলিমেন্টারি এডুকেশন), অধিকর্তা অসীম সাহা (সেকেন্ডারি এডুকেশন) সহ শিক্ষক শিক্ষিকা ও অন্যান্য আধিকারিকগণ।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য