স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১১ জুন : গ্যাসের অভাব দেখিয়ে তিন দিন ধরে বিদ্যালয়ের মিড ডে মিলের রান্না বন্ধ। মিড ডে মিলের পুষ্টি প্রকল্পের খাদ্যের পরিবর্তে ছাত্রীদের দেওয়া হচ্ছে বাজারের প্যাকেটজাত কেক। অভিভাবকদের অভিযোগ মূলে সংবাদ মাধ্যম বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পেলে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছে মিড ডে মিলের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক চিরঞ্জিত দাস। অমরপুর মহকুমার অধীন নতুন বাজার বালিকা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গত তিন দিন ধরে মিড-ডে মিল প্রকল্পের অধীনে রান্না করা খাবার বিতরণ বন্ধ থাকার অভিযোগ উঠেছে। গ্যাসের অভাবকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের রান্না করা পুষ্টিকর খাবারের পরিবর্তে বাজার থেকে আনা প্যাকেটজাত কেক বিতরণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ছাত্রী।
মিড ডে মিলের দায়িত্বে থাকার শিক্ষক চিরঞ্জিত দাসের নিকট কারণ জানতে চাইলে তিনি এক অদ্ভুত যুক্তি উপস্থাপন করেন। শিক্ষক মহাশয় জানান বিদ্যালয়ে গ্রীষ্মকালীন ছুটি দেওয়ার আগে সিলিন্ডারে যে গ্যাস ছিল দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় সিলিন্ডার থেকে সে গ্যাস নাকি উড়ে গিয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে স্কুল চালু হওয়ার পর তিনি গ্যাস সিলিন্ডারের জন্য গ্যাস অফিসে গেলেও গ্যাস সিলিন্ডার নাকি পাননি। তার জন্য নাকি তিনি মিড ডে মিলের রান্না বন্ধ রেখে বাজার থেকে পাঁচ টাকা দামের একটি করে কেক আর এক গ্লাস জল দিয়ে ছাত্রীদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করেন। এদিকে বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে বিদ্যালয়ে সংবাদ মাধ্যমকে দেখতে পেয়ে ফাঁকিবাজ শিক্ষকের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে যায়। গ্যাস সিলেন্ডার অজুহাত দেখিয়ে তিন দিন যাবত মিড ডে মিলের রান্না বন্ধ রাখলেও হঠাৎ করেই লাকড়ির চুলার ব্যবস্থা করে মিড ডে মিলের রান্না করার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে যদি বিকল্প ব্যবস্থায় রান্না করা সম্ভব হয়, তাহলে কেন দুইদিন আগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?
ছাত্রীদের পুষ্টি প্রকল্পের রান্না করা খাবার থেকে বঞ্চিত করার পিছনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই শিক্ষকের কি উদ্দেশ্য রয়েছে? তবে খবর নিয়ে যতটুকু জানা গেছে বিদ্যালয়ের গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলাকালীন মিড ডে মিল প্রকল্পের গ্যাস সিলিন্ডারটি গুণধর ওই শিক্ষক নিজের বাড়িতে নিয়ে চলে যায়। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ প্রায় সময় পুষ্টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত চাল ন্যায্যমূল্যের দোকান থেকে সংগ্রহ করে খোলা বাজারে বিক্রি করে দেয়। যে কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা ঠিকমতো মিড ডে মিলের খাবার পায় না বলে অভিযোগ। অভিভাবকদের একাংশের দাবি, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং মিড-ডে মিল প্রকল্পের খাদ্য সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে শিক্ষা দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তারা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন।

