বাড়িরাজ্যআগরতলায় শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে যুবতী ওয়ার্ডেনের নিথর দেহ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য

আগরতলায় শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে যুবতী ওয়ার্ডেনের নিথর দেহ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য

আগরতলা, ১১ জুন (হি.স.) : রাজধানী আগরতলার উপকন্ঠে মধুবন এলাকায় শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে জনৈকা যুবতীর রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে গভীর চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার গভীর রাতে কলেজের মহিলা হোস্টেলের একটি ঘর থেকে ২২ বছর বয়সী যুবতী মনীষা দাসের নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া ও উত্তেজনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃতা মনীষা দাস মধুবন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং তিনি শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের মহিলা হোস্টেলের ওয়ার্ডেন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দায়িত্বশীল ও শান্ত স্বভাবের পরিচিত এই যুবতীর আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মী ও স্থানীয়রা হতবাক হয়ে পড়েছেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বৃহস্পতিবার কলেজ চত্বর মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হোস্টেল এলাকায় তৈরি হয় আতঙ্ক, জমতে থাকে ভিড়। কীভাবে, কোন পরিস্থিতিতে এই মৃত্যু ঘটল—সে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনে।

অন্যদিকে, শোকস্তব্ধ পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ আরও গুরুতর মোড় নিয়েছে ঘটনাটিকে। তাঁদের দাবি, এটি কোনও আত্মহত্যা নয়, বরং সুপরিকল্পিতভাবে মনীষাকে খুন করা হয়েছে। দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন তারা।



ঘটনার পরপরই আমতলি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। পুরো হোস্টেল এলাকা ঘিরে তল্লাশি চালানো হয় এবং প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে তবেই মৃত্যুর আসল রহস্য উন্মোচিত হবে। আপাতত এই অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে প্রশ্নের ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

এদিকে, স্থানীয়দের মধ্যেও বাড়ছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ। শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের মতো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল—তা নিয়ে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন।

অন্যদিকে আমতলির এসডিপিও জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে অনুমান করা হচ্ছে। কারণ ওই যুবতীকে একটি ঘরের ভেতরে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। স্থানীয় ছাত্র-ছাত্রী এবং লোকজন বাইরে থেকে দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করেছে। তাই এটি আত্মহত্যা বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য