স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৪ জুন : রাষ্ট্রবাদী শ্রমিক সংগঠনের আদর্শে পরিচালিত পশ্চিম ত্রিপুরা বাস চালক সংঘ অবশেষে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকেই যাত্রীবাহী বাস এবং জীপ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। আর এটাই সুশাসন জামানা। যেখানে দিন-দুপুরে ছাপ্পা কাউন্সিলরের যুব বাহিনীর বিরুদ্ধে অতর্কিত হামলায় একাধিক শ্রমিক নেতা সহ গাড়ি চালকরা রক্ত ঝরেছে, সেখানে ২৪ ঘন্টা যেতে না যেতেই মীমাংসার পথ অনুসরণ করলেন শ্রমিক নেতা সামু বাবুর নেতৃত্বে রাষ্ট্রবাদী সংগঠন।
আড়ালে কি বোঝাপড়া হয়েছে সেটা সামনে না আনলেও বৃহস্পতিবার সংগঠনের কার্যালয়ে গেরুয়া চেয়ারে বসে সভাপতি রতন দেবনাথ সাংবাদিক সম্মেলন করে দাবি করলেন আগামী ৬ই জুন বিষয়টি নিয়ে মিমাংসা হবে। তাই তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল বুধবার সকাল বেলা নাগেরজলা বাসস্ট্যান্ডের মধ্যে যে ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে, এবং ছাপ্পা কাউন্সিলর অভিজিৎ মল্লিকের বিরুদ্ধে গুন্ডাবাহিনী পাঠিয়ে অতর্কিত হামলা চালানোর যে অভিযোগ উঠেছে সেটা মীমাংসা কেন সংগঠনের নেতারা করবে?
শত শত মানুষের সামনে সকাল বেলা অতর্কিত হামলা চালিয়ে রক্ত ঝরিয়েছে একাধিক শ্রমিকের। পুলিশ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা নিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করার প্রয়োজন এবং ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে দুর্বৃত্ত বাহিনীদের সনাক্ত করে গ্রেফতার করা প্রয়োজন। না হলে এ ধরনের গুন্ডাগিরি শহরে করে পার পাইয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে অভিযুক্ত যুব মোর্চার কর্মীদের বিরুদ্ধে। মোটা অংকের বিনিময়ে এবং সংগঠনের পদের বিনিময়ে মীমাংসা হতেই পারে, কিন্তু এভাবে পাবলিক প্লেসে গুন্ডামি করার অধিকার কারোর নেই। সংগঠন সংগঠনের জায়গায়। কিন্তু রাস্তাঘাটে গুন্ডামি করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা আইনত অপরাধ। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয় মানুষের জীবন পর্যন্ত এই গুন্ডা বাহিনীর কারণে ঝুঁকিতে পড়ে। সাধারণ মানুষের কথা না ভেবে নিজেদের ঝামেলা রাস্তাঘাটে এনে দুঃশাসন তৈরি করে চলেছে গেরুয়া রামাবলি পরিধান করা কতিপয় বিএমএস নেতারা।

