স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৩ জুন : পিস্তল দেখিয়ে সেকেরকোটের এক নাবালিকা মেয়েকে হুমকির ঘটনার নয়া মোড়। বুধবার আমতলী থানার ওসি পরিতোষ দাস চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন সাংবাদিকদের সামনে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে পিস্তল দেখিয়ে এই কান্ড ঘটানোর পেছনে নাবালিকা মেয়েটির বোন জামাইয়ের মামাতো ভাই প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। জানা গেছে গত কিছুদিন আগে সেকেরকোট এলাকার এক নাবালিকা মেয়ের পরিবার আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিল, যে অভিযোগে উল্লেখ ছিল জয়দেব দেবনাথ নামে এক যুবক নাকি নাবালিকা মেয়েটিকে পিস্তল দেখিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি এবং ভয়-ভীতি দেখাচ্ছিল। পরে আমতলী থানার পুলিশ এই অভিযোগটি হাতে পেয়ে তদন্তে নামে।
পুলিশ নাবালিকা মেয়েটির মোবাইল সহ জয়দেব দেবনাথ এবং নাবালিকা মেয়েটির বোনের জামাই ও বোনের জামাই এর মামাতো ভাইয়ের মোবাইল বাজেয়াপ্ত করে তদন্ত শুরু করে। পুলিশের এই তদন্তে প্রাথমিকভাবে বেরিয়ে আসে যে পিস্তলের ছবিগুলি জয়দেব দেবনাথ পাঠায়নি বরং ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে পিস্তলের এই ছবিগুলি নাবালিকা মেয়েটির বোন জামাইয়ের মামাতো ভাই পাঠিয়ে এই ধরনের কান্ড ঘটিয়েছে। ২০১২ সালের একটি মামলার ছবি সামাজিক মাধ্যম থেকে সংগ্রহ করে পুলিশকে ঘুমের বেচার চেষ্টা করে। পরবর্তী সময় নাবালিকা মেয়েটির বাবা যখন জানতে পারে এই ঘটনায় উনার মেয়ের জামাই সহ উনার মেয়ের জামাইয়ের মামাতো ভাই আইনি বেড়াজালে পড়তে পারে, তখন জয়দেব দেবনাথের সাথে মীমাংসা করারও সিদ্ধান্ত নেয় যা মানতে নারাজ পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপার।
জেলা পুলিশ সুপার নমিত পাঠক আমতলী থানার ওসি পরিতোষ দাসকে নির্দেশ দিয়েছেন পিস্তলের বিষয়টি নিয়ে কোন ধরনের আপোষ করা চলবে না, বরং পুলিশ যেন এই বিষয়টি সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করে। জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে আমতলী থানার পুলিশ বাজেয়াপ্ত করা মোবাইলগুলি ফরেন্সিক ল্যাবে পাঠিয়েছে। ফরেনসিক ল্যাব থেকে রিপোর্ট আসামাত্রই আমতলী থানার পুলিশ নির্দিষ্ট ধারায় মামলা নথিভুক্ত করে দোষীদের গ্রেফতার করবে।

