স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৪ মে : রাজ্যের একটি মাত্র আসনের উপনির্বাচনে প্রত্যাশিতভাবে জয় পেল ভারতীয় জনতা পার্টি। গত ৯ এপ্রিল ৫৬ ধর্মনগর আসনে উপনির্বাচনের ভোট হয়। দেশের পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফলের সঙ্গে সোমবার ত্রিপুরার এই একটি আসনের ভোটের ফলাফল ঘোষণা হয়। এদিন ৫৬ নম্বর ধর্মনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ভোট গণনা ঘিরে সোমবার সকাল থেকেই উত্তেজনার পারদ চড়েছিল রাজনৈতিক মহলে। পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটগণনার সঙ্গেই এই আসনের উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিকে নজর ছিল সকলের। সকাল আটটায় ধর্মনগর বালিকা বিদ্যালয়ের গণনা কেন্দ্রে শুরু হয় ভোটগণনা।
প্রথমে পোস্টাল ব্যালট গণনার মাধ্যমে সূচনা হয়, তারপর ১৪ টি টেবিলে ইভিএম গণনা শুরু হয়। মোট চারটি রাউন্ডে সম্পন্ন হয় গণনা। গণনার শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী জহর চক্রবর্তী। গণনা শেষে বিজেপি প্রার্থী জহর চক্রবর্তী তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিআইএম প্রার্থী অমিতাভ দত্তকে ১৮,২৯০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। জহর চক্রবর্তীর প্রাপ্ত ভোট ২৪ হাজার ২৯১ টি। সিপিআইএম দলের প্রার্থী অমিতাভ দত্তের প্রাপ্ত ভোট ৬০০১ টি। এই নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীকে তৃতীয় স্থানেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। কংগ্রেস প্রার্থী চয়ন ভট্টাচার্য্যের প্রাপ্ত ভোট ৫৯৩৬ টি। এছাড়াও ‘আমরা বাঙালি’ প্রার্থী নিবাস রঞ্জন দাসের প্রাপ্ত ভোট ২৭৪ টি। নির্দল প্রার্থী ব্রজলাল দেবনাথের প্রাপ্ত ভোট ১২৬ টি এবং এসইউসিআই প্রার্থী সঞ্জয় চৌধুরীর প্রাপ্ত ভোট ২২৬ টি। এদিকে ফলাফল প্রকাশের আগেই কার্যত উৎসবের আবহ তৈরি হয় ধর্মনগরে। গণনা কেন্দ্রের বাইরে বাজি পোড়ানো হয়, একই সঙ্গে চলে আবির খেলা ধুম এবং মিষ্টি মুখ। জয় ঘোষণা হওয়ার পর জহর চক্রবর্তীর হাতে সংশা পত্র তুলে দেন রিটার্নিং অফিসার দেবযানী লস্কর। পরবর্তী সময় বিজেপি প্রার্থী জহর চক্রবর্তী জানান তাঁর জয় প্রত্যাশিত ছিল।
ধর্মনগরবাসীকে করজোড়ে প্রণাম জানিয়ে বলেন আগামী দিন তাদের জন্য তিনি কাজ করবেন। এর জন্য তিনি সংকল্পবদ্ধ। তিনি আগামী দিন ধর্মনগরবাসীর সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চান বলে জানিয়েছেন। এদিকে জহর চক্রবর্তীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী অমিতাভ দত্ত বলেন, এই নির্বাচনে রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হবে না, তারপরও পরিবর্তনের যাত্রা শুরু করা যেত। তিনি আরো বলেন, নির্বাচন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু মানুষের মৌলিক সমস্যা পূরণ করার জন্য এবং সার্বিক উন্নয়নের জন্য লড়াই চলবে। কারণ ধর্মনগরের অনেক সমস্যা রয়েছে। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিকাঠামোর অভাবের সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে আছে। নির্বাচনের জয় পরাজয়ের জন্য আন্দোলন থেমে থাকবে না। নতুন ধর্মনগর গড়ে তুলতে লড়াই আগামী দিনও চলবে বলে জানান তিনি। আজকের ফলাফলে, ধর্মনগর বিধানসভা কেন্দ্র আবারও প্রমাণ করল-এটি বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। শাসক দলের এই জয় আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, এডিসি নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবির পর উপ-নির্বাচনের একটি আসনের জয় কিছুটা হলেও মনোবল বাড়াবে।

