স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৬ এপ্রিল : ভোটের ফলাফল প্রকাশ হতেই তিপরা মথার বিরুদ্ধে আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ এডিসি এলাকায়। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে চাকুরি বিলি করার অভিযোগ। রাজ্যপালের দারস্থ হল বিজেপি। সাংবাদিক সম্মেলন করে এই কথা জানান প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা। রবিবার প্রদেশ বিজেপির কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি বলেন, এডিসিতে নির্বাচনের সময় চাকুরী নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। নির্বাচনের পর সন্ত্রাস মাথাচাড়া দিয়েছে।
এই বিষয়গুলি নিয়ে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লুর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় রবিবার। কারণ রাজ্যপালের হাতে একটা বিশেষ ক্ষমতা থাকে। তিনি যেন এইগুলি খতিয়ে দেখেন তার জন্য তাঁর নজরে আনা হয়েছে। বিশেষ করে, খুমুলং-এর টিটিএএডিসি প্রশাসন তাদের শাসনকালে ব্যাপক দুর্নীতিতে লিপ্ত ছিল। পুরো প্রশাসনটিই ব্যাপক দুর্নীতি, সরকারি তহবিলের অপব্যবহার এবং প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের মতো কাজে ব্যাপকভাবে জড়িত ছিল। জনসেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়েছে তারা। আরো উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন টিটিএএডিসি প্রশাসন কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও পূর্ব প্রচার ছাড়াই তড়িঘড়ি ও গোপনে বিপুল সংখ্যক গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি পদে চাকরির প্রস্তাব দেয় এবং নিয়োগ দেয়। চাকরি প্রদান করার আগে নিয়ম অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হয়। এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে স্বজন-পোষন নীতি অবলম্বন করেছে শাসকদল মথা।
ডেপুটি সিইও -কে দিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে এ চাকুরী প্রদান করেছে। যা পুরোপুরি ভাবে দুর্নীতি ছাড়া কিছু নয়। এই ধরনের নিয়োগ স্বাভাবিক ন্যায় বিচারের নিয়ম ও নীতির পরিপন্থী। ভারতের অডিটর ও কম্পট্রোলার জেনারেলও এই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছে। প্রাক্তন সংসদ আরো বলেন, টিটিএএডিসি প্রশাসন তাদের শাসনকালে আর্থিক নিরীক্ষার নিয়ন্ত্রক দায়িত্ব পালন করেনি। তারা আর্থিক শৃঙ্খলা ভেঙে ফেলেছে। নির্বাচনের পর মানুষের বাড়িঘর ভেঙে দিচ্ছে, অগ্নিসংযোগ করছে এবং মহিলাদের বিবস্ত্র করে ইজ্জত হানি করছে। এ ধরনের অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপের জন্য ২৭ এপ্রিল এডিসির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শপথ গ্রহণ করবেন না বিজেপি-র জয়ী ৪ জন এমডিসি। তারা পরবর্তী সময় শপথ গ্রহণ করবেন বলে জানান প্রাক্তন সংসদ। আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজিত প্রার্থী বিপিন দেববর্মা সহ অন্যান্যরা।

